এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 17 জুলাই 2015 19:56

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-৩০

 আজ অফুরন্ত রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজানের শেষ দিন। মহান আল্লাহ যেন এবারের রমজানকেই জীবনের শেষ রমজান না করেন। 

 

আমরা রমজানে অর্জিত খোদাভীতি ও খোদাপ্রেমকে যেন সারা জীবনের জন্য ধরে রাখতে পারি এবং দিনকে দিন আল্লাহর আরো প্রিয়পাত্র হতে পারি সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বলা হয় যে দিনটিতে মুসলমান কোনো পাপ করে না সে দিনটিই হল তার প্রকৃত ঈদের দিন। 

 


পবিত্র ঈদের জামাআতে শরিক হওয়ার আগেই ঈদের ফিতরা পরিশোধ করা উত্তম। আপনার প্রধান খাদ্যগুলোর প্রায় তিন বা সাড়ে তিন কেজি'র আর্থিক মূল্যই হচ্ছে একজনের জন্য প্রদেয় সর্বনিম্ন ফিতরা।
ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সাম্রাজ্যবাদীদের জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম রমজানের আরেকটি বড় শিক্ষা। পবিত্র ঈদের জামাত এই ইসলামী ঐক্যের একটি মাধ্যম। তাই বলা হয়েছে, যতটা সম্ভব মুসলিম নারীরাও যেন ঈদের জামাতে শরিক হয় যাতে ইসলামের শত্রুরা মুসলমানদের আধিক্য দেখে তাদের সমীহ করে। 

 

পবিত্র কুরআনকে নিজেদের জীবনের সবক্ষেত্রে বাস্তবায়ন ছাড়া কেবলই নামাজ ও রোজা কোনো কাজে আসবে না। আমরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বা যেসব ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মানা সহজ কেবল সেসব ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান মেনে চলব -এটা মোটেই যৌক্তিক নয়। আমরা যদি বিশ্বনবী (সা.)-কে যদি জীবনের সবক্ষেত্রেই আদর্শ মনে না করি তাহলে আমাদের ঈমান কিছুতেই পূর্ণতা পাবে না। ঠিক যেভাবে কেউ যদি বলে আমি নামাজকে মানি কিন্তু রোজাকে মানি না বা জাকাতকে মানি না কিংবা হজ ও জিহাদ ছাড়া ইসলামের অন্য সব কিছুই মানি- এ জাতীয় ধারণা যেমন ইসলামকে পুরোপুরি অস্বীকারেরই নামান্তর তেমনি রাজনীতি ও সমাজনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমা মতবাদগুলোকে ইসলামের চেয়ে উন্নত মনে করলে তা হবে মহানবী (সা.)-কে এইসব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ বলতে অস্বীকৃতি জানানোরই নামান্তর। কুরআনকে যদি আমরা বিশ্বাস করি তাহলে এর সব অংশকেই বিশ্বাস করতে হবে। কুরআনেই মহান আল্লাহ বিশ্বনবী (সা.)কে সর্বোত্তম আদর্শ বলে উল্লেখ করেছেন। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা বা কথিত পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র অথবা সমাজতন্ত্র ইসলামের মত পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ ধর্মের বিকল্প হতে পারে না।


রমজান পাপ থেকে মুক্তির, আত্মশুদ্ধির ও কুরআন তিলাওয়াতের মাস এবং আল্লাহকে জানার ও খোদাপ্রেমের মাস। এ মাসে কুরআন-হাদিস ও জ্ঞান চর্চারও উদ্দেশ্য ছিল খোদাপ্রেম বা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আমরা যখন ইসলামকে জীবনের সবক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে পারব তখনই ঈদ উৎসব হয়ে উঠবে প্রকৃত ঈদ।


মহানবী (সা.) বলেছেন, আমি মানুষকে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দিতে এসেছি। অথচ আজও প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার অভাবই মুসলমানদের বর্তমান দুর্দশার সবচেয়ে বড় কারণ।

 

হযরত আলী (আ.)'র যুগে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী খারেজীদের জ্ঞান ছিল চিন্তাহীন। কুরআনের আয়াতের শাব্দিক অর্থ ছাড়া অন্য কোন চিন্তা-ভাবনা তারা করতো না। তাই যারা কুরআনের গভীর অর্থ জানেন-এমন লোকদের কথাবার্তা তারা মেনে নিতে পারতো না। ফলে তারা মুয়াবিয়া ও আমর ইবনে আসের মত লোকদের অতি সাধারণ ছল-চাতুরী, প্রতারণা ও ভণ্ডামির ফাঁদে পড়ে ধোঁকা খেয়েছিল। আলী (আ.) ছিলেন কুরআনের জীবন্ত ভাষ্যকার ও মুফাসসির। অথচ খারিজিরা তাঁকেই কুরআনের তাফসির বোঝাতে চেয়েছিল। এরা অজ্ঞতা ও ইবাদতকে সমান্তরালে চালিয়েছিল। তাদের কথিত ব্যাপক ইবাদত, তাকওয়া ও যোহদ তাদের অজ্ঞতা থেকে ভিন্ন ছিল না। তাই মহানবীর (সা.) পর ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী-গুণী ও পণ্ডিত আলী (আ.) -এর কাছে খারিজিদের নিষ্প্রাণ ও শুষ্ক ইবাদতের কোনো মূল্যই ছিল না। ফলে আলী (আ.) তাদেরকে কঠোর হাতে দমন ও নির্মূল করেছিলেন।


বর্তমান যুগের তাকফিরি-ওয়াহাবি মতবাদ ও তাদের সমর্থক ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও হচ্ছে খারিজিদের মতই পথভ্রষ্ট। এইসব গোষ্ঠীও কথায় কথায় মুসলমানদেরকে কাফির বলছে ও নানা অজুহাতে তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। আর তাদের নৃশংসতাকে ব্যাপক মাত্রায় প্রচার করে সাম্রাজ্যবাদীরা ইসলামকেই সহিংস ও নৃশংস বলে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তাই ইসলামের ঘোর শত্রুদের মদদপুষ্ট এইসব ধর্মান্ধদের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষার জন্য আজ মুসলমানদেরকে হতে হবে জ্ঞান ও ঐক্যের শক্তিতে বলীয়ান।


তাকফিরি-ওয়াহাবি গোষ্ঠীগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছুই বলছে না। অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতার ক্ষেত্রে ইহুদিরাই সবচেয়ে কঠোর।


তাকফিরি-ওয়াহাবি গোষ্ঠীগুলো ইসলামের সবচেয়ে কঠোর শত্রু তথা ইহুদিবাদীদের ইঙ্গিতেই শিয়া-সুন্নি বিরোধকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে।


সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আজ তাকফিরি সন্ত্রাস উসকে দিয়ে একেই ইসলাম বলে তুলে ধরতে চাইছে। অথচ বিশ্বের দেশে দেশে গোপন মার্কিন কারাগারগুলোতে নিরপরাধ বন্দীদের ওপর কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর যেসব নৃশংসতা চালাচ্ছে সেইসব খবর প্রচার করছে না পাশ্চাত্যের নেতৃবৃন্দ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রচার মাধ্যম। পাশ্চাত্য বাহরাইনের জনগণ ও ইয়েমেনের জনগণের ওপর তাদের সেবাদাস রাজতান্ত্রিক শাসকদের দমন-পীড়ন এবং গণহত্যার বিষয়েও নীরব রয়েছে।


আসুন আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, মিয়ানমার ও কাশ্মীরের মুসলমানসহ বিশ্বের সব অঞ্চলের সব নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। হে আল্লাহ! মুসলমানরা যেন আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করতে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে সেই সোনালী যুগের ঐতিহ্য আবারও ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। আমীন।


এবারে পড়া যাক অর্থসহ ত্রিশ রোজার দোয়া:

 
اليوم الثلاثون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ صِيامى فيهِ بِالشُّكْرِ وَالْقَبُولِ عَلى ما تَرْضاهُ وَيَرْضاهُ الرَّسُولُ، مُحْكَمَةً فُرُوعُهُ بِالاُْصُولِ، بِحَقِّ سَيِّدِنا مُحَمَّد وَآلِهِ الطّاهِرينَ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعالَمينَ .
হে আল্লাহ ! তুমি ও তোমার রাসুল ঠিক যেমনিভাবে খুশি হবে তেমনি করে আমার রোজাকে পুরস্কৃত কর এবং কবুল করে নাও। আমাদের নেতা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও তার পবিত্র বংশধরদের উসিলায় আমার সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলকে মূল এবাদতের সাথে যোগ করে শক্তিশালী কর। আর সব প্রশংসা ও স্তুতি জগতসমূহের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহর। #

 

রেডিও তেহরান

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন