এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 29 নভেম্বর 2015 19:23

ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছেন এরদোগান, খেলছেন আগুন নিয়ে

ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছেন এরদোগান, খেলছেন আগুন নিয়ে

আনোয়ারুল হক আনোয়ার : আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদ একজন সাহসী ও স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান কয়েক বছর আগে থেকে ড. মাহাথির মোহাম্মদের পদাঙ্ক সূত্র অনুসরণ করে আসছেন বলে দাবি করা হয়। মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে মালয়েশিয়াকে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও নির্ভেজাল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে অধিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব একমাত্র ড. মাহাথির মোহাম্মদের। মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এ মহান নেতা বরাবরের ন্যায় সোচ্চার। পশ্চিমা শক্তি বিশেষ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী বক্তব্য নির্যাতিত মুসলিম জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। সে ক্ষেত্রে রজব তাইয়্যেব এরদোগান তাঁর ধারে কাছেও নেই। দুই বছর আগে বেসরকারি উদ্যোগে তুরস্ক থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকার জনগণের জন্য পাঠানো ত্রাণবাহী জাহাজের উপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মীকে হতাহত করে ইহুদিবাদি ইসরাইলি সেনারা। সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভয়াবহ হামলায় শতাধিক নীরিহ মানুষের হতাহতের ঘটনায় বিশ্বাসী স্তম্ভিত। এ দু’টি ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ড. মাহাথির মোহাম্মদের দেয়া সাহসী ও সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইহুদিবাদি ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বের পাশাপাশি আইএসআইএল-কে সব ধরনের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কিত ভূমিকা গ্রহণ করে ব্যাপক সমালোচিত হয়ে পড়েছেন।

 

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে এরদোগানের ভূমিকা

৩ লাখ ২ হাজার ৫৩৫ বর্গমাইল আয়তনবিশিষ্ট তুরস্কের পশ্চিমে এজিয় সাগর ও গ্রিস, উত্তর পূর্বে জর্জিয়া,আর্মেনিয়া ও স্বায়ত্বশাসিত আজারবাইজানি প্রজাতন্ত্র নাখচিভান, পূর্বে ইরান দক্ষিণে ইরাক, সিরিয়া ও ভূমধ্যসাগর। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদার্পন ঘটে রজব তাইয়্যেব এরদোগানের। একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে তুরস্ক ন্যাটো সদস্য এবং ইসরাইলের সাথে পূর্ণ কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী দেশ। পশ্চিমা ভাবধারায় পরিচালিত তুরস্কের সামরিক বেসামরিক প্রশাসনে এরদোগান বিরোধীরা সক্রিয়। কয়েক দশক যাবত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তেমনিভাবে দেশের পার্লামেন্টও কুর্দিদের নির্বাচিত প্রতিনিধির সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মুরসি সরকারকে সামরিক ক্যূ’র মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন সেনা প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ সিসি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান জেনারেল সিসি’কে ‘স্বৈরাচারি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তেমনিভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পশ্চিমাদের সূদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নেও মুসলিম বিরোধী জোটের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অবৈধভাবে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরাইল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এসময় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো ইসরাইল ইস্যুতে একাট্রা হলেও উপসাগরীয় ৬টি আরব দেশের সাথে পশ্চিমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকে। পরবর্তীতে ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তির সুবাদে মিশরের সাথে ইসরাইলের কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। অপরদিকে পশ্চিমা ভাবধারায় পরিচালিত তুরস্কের সাথেও ইসরাইলের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বর্তমানে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের দুর্বলতার সুযোগে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শক্তি গোটা মধ্যপ্রাচ্যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরান ও সিরিয়া বরাবরের ন্যায় কঠোর অবস্থানে অটুট থাকে। আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়া আগ্রাসনের সময় ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে তুরস্ক সামরিক অভিযানে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে। তখন ইরান ও সিরিয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট কর্তৃক আগ্রাসনের চরম বিরোধিতা করে। আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর পশ্চিমাদের অবশিষ্ট টার্গেট থেকে যায় ইরান ও সিরিয়া। ফলে স্বাভাবিকভাবে ইসরাইল বিরোধী এ দুইটি দেশকে পদানত করার সুগভীর চক্রান্ত চলতে থাকে সমান গতিতে। ইসরাইলকে সম্পূর্ণরুপে নিরাপদ রাখতে পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যের রাজা বাদশা শাসিত দেশগুলোকে এ কথা বুঝাতে সমর্থ হয়ে যে, ইসরাইল নয় বরং ইরান ও সিরিয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন কথা তেমন কাজ। পরনির্ভরশীল রাজা বাদশারা পশ্চিমাদের খোঁড়া যুক্তি লুফে নিয়ে বিভিন্ন কুটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ইরানে হামলার লক্ষে সৌদি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রী একাধিকবার ইসরাইলের হাই কমান্ডের সাথে বৈঠক করে। যার প্রতিদান স্বরূপ ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে ইসরাইলী বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণ অনেকটা ওপেন সিক্রেট। উল্লেখ্য, ইয়েমেনের সেনা ও গণবিপ্লবী বাহিনীকে ইরান সমর্থন করছে বিধায় সৌদি আরব ইসরাইলের বিমান বাহিনীকে ইয়েমেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে। এ যুদ্ধে তুরস্ক সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সৌদি জোটকে সমর্থন দিচ্ছে। পশ্চিমা মারপ্যাচের খেলায় সর্বশেষ ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই’তে একটি কুটনৈতিক অফিস চালু করার খবর বেরিয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। এ কাজে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেব রজব এরদোগান ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। নিজ দেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়া থেকে লুণ্ঠনকৃত লাখ লাখ ব্যারেল তেল হাতিয়ে নিচ্ছে তুরস্ক। বাশার আল আসাদ ইস্যুতে এরদোগান এখন পশ্চিমাদের একক মুখপাত্রের অতিরিক্ত দায়িত্বটিও পালন করছেন।

 

সম্প্রতি তুরস্ক রাশিয়ার একটি যুদ্ধ বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে ফেলেছে। এতে করে যে সব দেশ সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে সে সব দেশকে দারুণ হতাশ করেছেন এরদোগান। শুধু যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করে ক্ষ্যান্ত হননি এরদোগান। উপরন্তু রাশিয়াকে উদ্দেশ্যে করে ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। কারণ তার দেশ ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র তাই। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, রাশিয়ার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণের মাধ্যমে রজব তাইয়্যেব এরদোগান মূলতঃ নিজেই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন। তার এ ধরনের আচরণে পরাশক্তি রাশিয়ার তেমন কিছু আসে যায় না। অথচ সিরিয়া ইস্যুতে পশ্চিমারা রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ‘শাখের করাত’ হিসেবে ব্যবহার করলেও তিনি ঘুমের ঘোরে রয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়।

 

তুরস্ক সামরিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী দেশ। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১২ লক্ষাধিক। বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সমরাস্ত্র তৈরি করছে দেশটি। বিগত নির্বাচনে পশ্চিমা মিডিয়া তার দলকে ‘উগ্রবাদী মুসলিম দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এরদোগানের নেতৃত্বে ‘তুরস্ক ইসলামপন্থীদের দখলে যাবার আশংকা’ প্রকাশের বিষয়টি এরদোগান কি বেমালুম ভুলে গেছেন? প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব লাভের পর তিনি হয়তো পুরনো অনেক ঘটনাবলী ভুলে যেতে পারেন কিন্তু সিরিয়া যুদ্ধে ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবলে ভবিষ্যতে তাকে চরম খেসারত দিতে হবে। সিরিয়া যুদ্ধে তুরস্কের অহেতুক জড়ানোর ঘটনায় বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের নিন্দার পাত্রে পরিণত হয়েছে রজব তাইয়্যেব এরদোগান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সচেতন মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রশাসিত দেশগুলোতে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে কয়েক দশক পূর্বে। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষে রাজা-বাদশারা এসব দেশের আয়-ব্যয় কিংবা পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জনগণকে সব সময় অন্ধকারে রাখে। জনগণের মৌলিক অধিকার হননকারী সরকারগুলো বিরোধী দল বিশেষ করে ভিন্ন মতালম্বীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন, কারারুদ্ধ এমনকি দেশ থেকে বহিষ্কার করে থাকে। তেমনিভাবে পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ যদি রাজতন্ত্র বিরোধী হয় তা হলে নিস্তার নেই। পশ্চিমা শক্তি ব্যবহার করে আগ্রাসনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করাও নিত্যকার বিষয়।

 

অনেকের মতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেব রজব এরদোগান মূলতঃ দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্যের সৃষ্টি, পর্যায়ক্রমে মুসলিম দেশগুলোতে খণ্ডবিখণ্ড করা, যুদ্ধ-বিগ্রহ বাঁধিয়ে মুসলমানের মধ্যে রক্তপাত ঘটানোর পশ্চিমা নীল নকশা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, মুসলিম দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী যাবতীয় কাজ এরদোগানের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এরদোগান রাষ্ট্র প্রধান ছাড়াও একজন সচেতন রাজনীতিবিদ বলে আমার ধারণা। ইসলামের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস সম্পর্কে তার ভালো ধারণা থাকার কথা। মুসলমানদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা মুসলিম নামধারী বহু মুনাফিকের কীর্তিকলাপের ইতিহাস সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পবিত্র ইসলাম, মুসলিম দেশ, সমাজ, সভ্যতা ও সাংস্কৃতির মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার লক্ষে যুগ যুগ ধরে শত্রুরা তৎপর রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইসলাম বিরোধীরা এখন ‘ভার্চুয়াল মিডিয়া’কে ব্যবহার করে অপসংস্কৃতি মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। মুসলমানদের চিন্তা চেতনার ভিত্তিমূলে আঘাত হানা হচ্ছে এমনকি অমুসলিমদের মাঝে ইসলামভীতি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কারা এসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে সেটা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেব রজব এরদোগানের অজানা নয়। মুসলিম সমাজে একটি প্রবাদ রয়েছে ‘যদি বিধর্মীরা কোন মুসলমান ব্যক্তির প্রশংসা করে-তা হলে বুঝতে হবে-উক্ত ব্যক্তি মুসলমানের ক্ষতি করছে’। প্রবাদটি তুরস্কেও প্রচলিত আছে। জনপ্রিয় প্রবাদটি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জানা আছে কিনা-সেটা আমার ধারণা নেই। তবে এরদোগানের বর্তমান কর্মকাণ্ডে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান হতাশ। ভালো-মন্দ বিবেচনা না করেই তিনি পশ্চিমা ফাঁদে পা দিয়েছেন। সিরিয়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজ দেশে যদি তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়-তাহলে আগামী নির্বাচনে তার পরাজয় নিশ্চিত। তখন পশ্চিমারা কি তাকে সহযোগিতা করবে? এসব বিষয় বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেব রজব এরদোগানের ব্যবধান আকাশ-পাতাল ফারাক। প্রথমজন মুসলিম জাতির পক্ষে সোচ্চার। অপরজন মুসলিম বিরোধী শক্তির দোসর। অর্থাৎ ড. মাহাথির মোহাম্মদের জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও নেই তুরস্কের এরদোগান। মুসলিম জাতির শ্রদ্ধা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করা সাধারণ ব্যাপার নয়। যেটা ড. মাহাথির মোহাম্মদ মুসলিম বিশ্বকে দেখিয়েছেন।

 

তুরস্কের আশপাশের অনেক দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও তুরস্ককে এখনো সদস্যপদ দেয়া হয়নি। পশ্চিমারা তুরস্কের দিকে মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে। এরদোগানের মতিগতি সম্পর্কে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ সন্দিহান। ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইরান সরকার সর্বশেষ পরিস্থিতির বিচার বিশ্লেষণ করছে। ফলে প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেব রজব এরদোগান দুই নৌকায় পা রেখে ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ যাত্রায় সফলতার পরিবর্তে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তাকে ফিরে যেতে হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের লৌহ মানব হবার খায়েশটুকুও তিমিরেই থেকে যাবে।#

 

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক গবেষক

 

(মতামত প্রকাশিত বক্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব, রেডিও তেহরানের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভূক্ত নাও হতে পারে। )

 

রেডিও তেহরান/এআর/৩০

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন