এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 10 জানুয়ারী 2016 07:43

সিরিয়ার মাদায়া শহরের খাদ্যাভাব নিয়ে গণমাধ্যমে মিথ্যাচার

সিরিয়ার মাদায়া শহরের খাদ্যাভাব নিয়ে গণমাধ্যমে মিথ্যাচার

রাশেদুজ্জামান রাসেল: সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া অভিযোগ করেছে যে, দামেস্ক থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং লেবানন সীমান্তের মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাদায়া শহরটি বেশ কয়েক মাস ধরেই বাশার আল আসাদের মানে সরকারি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ অবরোধ করে রেখেছে। যার ফলে মাদায়া শহরে অবরুদ্ধ অবস্থায় না খেয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নারী-পুরুষ ও শিশু ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং খাদ্যের অভাবে অনেকেই জীবন বাঁচাতে গাছের ডালপালা, পোকামাকড় এমনকি বিড়ালের মাংস খাচ্ছে বলে তারা প্রচার করছে। প্রমাণ হিসেবে তারা বেশ কিছু ছবি তাদের মিডিয়াতে প্রকাশ করে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের কিছু জাতীয় পত্রিকা এই নিয়ে রিপোর্ট করেছে এবং তারা রিপোর্টের সোর্স হিসেবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট, বিবিসি ও আল জাজিরা অবলম্বনে হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে আসল সত্য হলো- সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া বাশার আল আসাদ-এর বাহিনী ও হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও অভিযোগ তুলে ফেইক ছবি ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে।

 

প্রথম ছবিটা মিডিয়াতে প্রকাশ করে সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া অভিযোগ করে ৬ মাস পূর্বে মাদায়া শরের মেয়েটির অবস্থা কেমন ছিল (বামে) আর এখন মাদায়ে খাদ্যের অভাবে (ডানে) কী অবস্থা হয়েছে! কিন্তু সত্য হলো- বামের এই মেয়ের ছবিটা ২০১৪ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে তোলা; মেয়েটি ছিল সিরিয়ার শরণার্থী। আর ডান পাশের ছবিটা পূর্ব ঘোওটা দামেস্কে থেকে নেয়া যেটি এক বালক তুলেছিল, যা মাদায়া অঞ্চলের ছবি ছিল না। অথচ আল জাজিরা তাদের টুইটার পাতায় এই ইমেজ প্রকাশ করে সেখানকার একজনের দাবি তুলে প্রচারণা চালিয়েছে যে তিনি মাদায়া অধিবাসী।

 

দ্বিতীয় যে ছবি একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির; সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া প্রচারণা চালিয়েছে তিনি মাদায়া অঞ্চলের একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি অথচ সত্য হলো এই ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ছবিটি ২০০৯ সালে প্রকাশ করা হয়েছিল ইউরোপে একটি উদ্বাস্তু শিবির থেকে।

তৃতীয় শিশুর ছবি নিয়েও সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে যে, শিশুটি মাদায়া অঞ্চলের শিশু অথচ সত্য হলো দামেস্কের উপকণ্ঠে ইয়ারমুকের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির থেকে শিশুটির ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে যেখানে আইএসআইএল’র এবং আল-নুসরা ফ্রন্ট সন্ত্রাসী কর্তৃক অনেকেই সেখানে জিম্মি ছিল।

 

চতুর্থ ছবির লোকটির নাম মোহাম্মদ ইউসেল আল নাজ্জার।  দামেস্কের পূর্ব ঘোওটার জাহিয়া এলাকায় ঠাণ্ডাজনিত রোগ, অপুষ্টিসহ নানা রোগে ভোগে মারা যান তিনি। অথচ তার ছবিও চালিয়ে দেয়া হয়েছে মাদায়ার বলে!

 

এ রকম অনেক ফেইক ছবি তৈরি করে সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া ব্যাপকভাবে বিশ্বব্যাপী মিথ্যা প্রচারণা করছে ও ছড়িয়ে দিচ্ছে আর সেই সাথে তারা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে যে, এইগুলো মাদায়া অঞ্চলের অধিবাসীদের যেখানে বাশার আল আসাদ মানে সরকারি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ’র অবরোধের ফলে সেখানে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সতিক্যার বাস্তবতার বিষয় হলো- সিরিয়ার সরকারী বাহিনী মাদায়া শাঘিন,সারঘায়া অঞ্চলে খাদ্যের ও চিকিৎসার ট্রাক কার্গো প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। কারণ এতদিন মানবিক উপকরণগুলো, খাদ্যের গুদাম সেখানকার সন্ত্রাসী গ্রুপের আওতাধীন ছিল এবং সেই শহরের কেন্দ্র সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণ করতো। এমনকি মাদায়া শহর থেকে কেউ অন্যত্র চলে যেতে চাইতে সেই অঞ্চলের বাসিন্দাকে সন্ত্রাসীরা আটক করে রাখতো। পরবর্তীতে সিরিয়ার সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে কিন্তু অন্যান্য সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ না করে মাদায়াতে রয়ে যায় এবং তারা হুমকি দেয় যেকোন বহনকারী যানবাহনের উপর হামলা চালাবে। ফলে মাদায়াতে অঞ্চলে উপস্থিত সন্ত্রাসীদের দরুণ সৃষ্ট হয়েছিল সেখানে বিশৃঙ্খল মানবিক বিপর্যয়।

 

অবশ্য এই পরিস্থিতিতেও সিরিয়ার সরকারী বাহিনী বিমানের উপর সন্ত্রাসীদের ফায়ার করার মধ্যেও বিমান থেকে ময়দার বস্তা, রুটি ফেলত মাদায়া অঞ্চলে অধিবাসীদের জন্য। অথচ আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া, হিউম্যান রাইটস এসব অঞ্চলে 'বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর তখন কোনো একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে নি।

 

কিন্তু আজ সৌদি আরব পশ্চিমা মিডিয়া তাদের নিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার দিয়ে প্রচুর টাকা ঢেলে টেকনোলোজি, মিডিয়া ব্যবহার করে জনগণের সেন্টিমেন্ট আদায়ের জন্য সৌদি আরব ও পশ্চিমার প্রতি সমর্থন বাড়ানোর জন্য এবং তাদের খুশিমত মিথ্যা ও ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং সেটার ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

তবে বাস্তব সত্য এই যে, কাফ্রিয়া, আল-যাহরা এবং নুবল সেইসাথে মাদায়ার অঞ্চলে আজকের এই বিশৃঙ্খল মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ও সেখাকার সন্ত্রাসীদের শক্তিশালী করা ও সহযোগিতা করার পিছনে আমেরিকা ইসরাইল যেমন প্রধান অপরাধী তেমনি সন্ত্রাসীদের ও সাম্রাজ্যবাদীদের সমস্ত কর্মকাণ্ড সৌদি আরব ও তুরস্ক দ্বারা সমর্থিত। 


সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিডিয়া বাশার আল আসাদ-এর বাহিনী ও হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও অভিযোগ তুলে ফেইক ছবি ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে সৌদি আমেরিকা বিশ্বব্যাপীর কাছে এই ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল যে তারা মায়াদা অঞ্চলের অধিবাসীর জীবন নিয়ে কত উদ্বিগ্ন অথচ সৌদি আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র আমেরিকার তৈরি ক্লাস্টার বোমা, মিসাইল, গোলাবারুদ সরাসরি নিরপরাধ ইয়েমেনি জনগণের ওপর নিক্ষেপ করে তারা সেখানে গণহত্যা চালাচ্ছে। অথচ এই গণহত্যার সংবাদ বা রিপোর্ট পশ্চিমা মিডিয়া থেকে শুরু করে আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো উপেক্ষা করে গেছে, সৌদি আমেরিকার আনুগত্য করতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের খুশি রাখতে কলনিয়াল দাসকৃত ও সুবিধাবাদী সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীগণ নীরবতা পালন করে যাচ্ছে। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে যারা জেনেও প্রতিবাদ করবে না সত্য উন্মোচন করার চেষ্টা চালাবে না, সত্য প্রকাশ করতে দিবে না বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে জনগণকে যারা বিভ্রান্তি করার প্রচেষ্টা চালায় তারাও কি এই অন্যায়ের কাজের সাথে দায়ী থাকবে না? তাদের আকল কি বলে তা জানি না তবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, তোমাদের কী হলো, তোমরা আল্লাহর পথে অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য কেন লড়ছ না, যারা দুর্বলতার কারণে নির্যাতিত হচ্ছে? তারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নিয়ে যাও, যার অধিবাসীরা জালেম এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোনো বন্ধু, অভিভাবক ও সাহায্যকারী তৈরি করে দাও। যারা ঈমানদার তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায় আর যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। কাজেই শয়তানের সহযোগীদের সাথে লড়ে যাও। নিশ্চিত জেনে রাখ, শয়তানের কৌশল আসলেই দুর্বল? আল্লাহ পাক আরো বলেছেন, সত্য আসলে মিথ্যা অবশ্যই দূরীভূত হবেই। বেহেশতের সর্দার ইমাম হুসাইন বলেছিলেন, আমার আত্মা এমন নয় যে জালেমের সাথে আপোষ করে বেঁচে থাকবে।#

 

লেখক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন