এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 24 জানুয়ারী 2016 15:40

ইরান-আরব নয়, দ্বন্দ্ব ইসলাম বনাম সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের

ইরান-আরব নয়, দ্বন্দ্ব ইসলাম বনাম সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের

মাহমুদ জাবির: ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব প্রসূত ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইরান-আরব দ্বন্দ্বের প্রচারণা জোরেশোরে চালানো হয়। প্রচারণায় ইরান-আরব দ্বন্দ্বের যেসকল কারণ উল্লেখিত হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

ক) শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব তথা সাম্প্রদায়িক সংঘাত

খ) জাতিগত আত্মপরিচয় ও মর্যাদার দ্বন্দ্ব

গ) ইসলাম পূর্ব ইরানি গৌরব গাঁথার কাহিনী

ঘ) ইরান ও আরবের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে জাতীয়তাবাদী চেতনার মিশ্রণ

 

ইরান-আরব দ্বন্দ্ব কথাটাই অমূলক, সত্যবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর। ইরানে ১৯৭৯ সালে আড়াই হাজার বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ইমাম খোমেনী (রহ.) এর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সফল হয়। আরবের কেন্দ্রীয় দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে রাজতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার যা কিছুতেই ইসলাম সম্মত নয়। ৭৯’র আগে ইরান-আরব মৈত্রীর সম্পর্ক সকলেরই জানা। কিন্তু ৭৯’র পরবর্তীতে ইরান-আরব দ্বন্দ্বটা এবং দ্বন্দ্বের প্রচার কেন প্রকট হয়ে উঠল?

 

প্রথমত ইরানে স্বৈরতন্ত্র ও রাজতন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলে যে ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় তার ভিত্তি ছিল জনগণ, কেননা ৯৯% এর অধিক জনসমর্থন নিয়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা পায়। অন্যদিকে সৌদি আরবে স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় টিকে আছে রাজতান্ত্রিক শাসন যা নীতিগতভাবে ইসলামের আদর্শবিরোধী এবং যার ভিত্তি হবস ও অস্টিনের তত্ত্বমতে স্বৈরতান্ত্রিক একচ্ছত্রবাদ, যেখানে শাসক জনগণের ভাষ্য ও অধিকারকে ভুলুন্ঠিত করে গণবিচ্ছিন্ন শাসনকার্য অব্যাহত রাখে। ইরানের সরকার যেহেতু জনগণের সরকার, সৌদি তথা পার্শ্ববর্তী আরবদেশের সরকার যেহেতু গণবিচ্ছিন্ন সরকার, সে কারণে দ্বন্দ্বটা ইরান বনাম আরব না বলে ইরান বনাম স্বৈরতন্ত্র বলাই শ্রেয়।  

 

ইরান বনাম আরব দ্বন্দ্ব কথাটার মধ্যে রয়েছে জাতিগত দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত। কিন্তু ইরান ও সৌদি আরব কোনটিই জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত নয়। কারো মতে, ইরানে বিপ্লবের চরিত্রের কারণে ইরান-আরব দ্বন্দ্ব বিরাজমান। তাদের মতে, আয়াতুল্লাহ খোমেনী ইসলাম ও ইরানি জাতীয়তাবাদের চেতনা ভালোভাবেই ইরানি জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। তারা এও বলেন যে, ইরানি জাতীয়তাবাদের মাত্রা এতটা প্রকট ছিল যার ফলে একক সুপার পাওয়ার আমেরিকা ও তার সহযোগী ব্রিটিশ, ফ্রান্সসহ পুরো ইউরোপ ও আরবদের মিত্র হওয়ার পরেও রেজা শাহ ইরান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এর মানে  ইরানে ইসলামী বিপ্লবের মূল উপাদান তারা চিহ্নিত করেন দু’টি- (১) ইসলাম (২) প্রকট জাতীয়তাবাদ। এতে স্পষ্ট করা হয় যে, ইরানে ইসলামী বিপ্লব ত্রুটিযুক্ত, কেননা ইরান সেক্যুলার মতাদর্শ জাতীয়তাবাদকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করছে। বাস্তবিক অর্থে ইরান জাতীয়তাবাদী চেতনাধর্মী না হয়ে মৌলিক ইসলামের আদর্শে রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম রাখছে। বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনী (রহ.) এর বক্তব্যে দেখা দরকার বিপ্লবের মূল উপাদান কিসে নিহিত ।

 

ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেন-“মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশার মূলই হচ্ছে এই জাতীয়তাবাদ। যারা জাতীয়তা ও জাতীয়তাবাদের নামে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে এরা শয়তানের বাহিনী এবং এরা পরাশক্তিবর্গের অনুচর ও কুরানে করীমের বিরোধীদের সাহায্যকারী।”

 

ইমাম খোমেনী (রহ.) আরো বলেন- “যে রহস্যটি আপনাদের বিজয়ী করেছে তাহলো আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান ও আল্লাহ্‌র প্রতি মনযোগ । আল্লাহু আকবার ধ্বনিই আমাদের বিজয়ী করেছে। আল্লাহ্‌র উপর ঈমান ও একতার বলে আপনারা সকল পরাশক্তিকে তাড়াতে পেরেছেন ।”

 

বিপ্লবের নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিপ্লবের মূল উপাদান ঈমান ও ইসলাম । সুতরাং বিপ্লবের বিজয়ী হওয়া এবং তথাকথিত সুপার পাওয়ার ও তার সহযোগীদের পরাস্ত করার একমাত্র হাতিয়ার ঈমান ও একতা, যা এক আল্লাহ্‌র একত্ববাদের শিক্ষা থেকে অর্জিত হয় । বরং ইমাম খোমেনী উল্লেখ করেন, জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের বিভক্তির অস্ত্র এবং পরাশক্তিবর্গের গুটি।

 

কেউ কেউ মনে করেন, ইসলাম পূর্ব ইরানে কবি ফেরদৌসি রচিত গৌরবগাঁথা কাহিনী ইরানের মধ্যে যে জাতীয়তাপ্রেম সৃষ্টি করেছে তার ফলে ইরান-আরব জাতিগত  বিভাজন ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তারা বলেন যে, সপ্তম শতকের মধ্যভাগে আরব মুসলিমদের দ্বারা বিজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামে দীক্ষিত হলেও ইরানি মনস্তত্তে রয়েছে আরবদের প্রতি ঘৃণা। কারণ, আরবের সাথে পারস্যের যুদ্ধে পরাজয় এবং পয়গম্বরের পাঠানো চিঠির জবাবে পারস্যের তৎকালীন রাজা খসরুর জাতিবিদ্বেষী বক্তব্য। এদের মতে, ইরান জাতির মনস্তত্ত্বে কোনো পরিবর্তন আসেনি, জাতীয়তাবাদী চেতনাই এদের মূল চেতনা।

 

যদি ইরান জাতির মনস্তত্ত্ব অপরিবর্তিতই হতো তাহলে ইরানে এত বড় জনপ্রিয় ত্যাগধর্মী বিপ্লব হতে পারত না। অপরিবর্তিত মনস্তত্ত্ব নিয়ে কিছুতেই বিপ্লব করা  সম্ভব  নয়। কেননা এ বিপ্লব গুটিকতকের সশস্ত্র বিপ্লব ছিল না। এ বিপ্লবে যত লোক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে এবং যত লোকের ও যত শ্রেণীর অংশগ্রহণ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটি কোন বিপ্লবে ছিল না। এ বিপ্লবের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল- (১) জনগণের ঈমান ও সচেতনতা (২) সুযোগ্য ইসলামী নেতৃত্ব (৩) ইরানের আলেম ও জনগণের ঐতিহাসিক গণআন্দোলন (৪) উচ্চতর জ্ঞানী ও আলেমদের জ্ঞানগর্ভ ইসলামী মতাদর্শ।

 

ইরানের বিপ্লবে যে সকল নেতৃত্বের সমাগম হয়েছিল তারা কেউ জাতীয়তাবাদী ছিলেন না, তাদের বক্তব্য জাতীয়তাবাদধর্মী ছিল না, এমনকি তাদের লিখিত উচ্চমার্গীয় বইগুলোতে ইসলামের মূলনীতির ব্যখ্যা বিশ্লেষণ ছিল। তারা কখনো কোন বইয়ে পারস্যের পরাজয়ের স্মৃতিচারণ, সম্রাট খসরুর বর্ণবাদী নীতির সমর্থন করেননি। বরং তাদের বইগুলোতে অত্যাচারী জালেম শাসকদের অন্যায়, অবিচার, বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও ফ্যাসিবাদের সমালোচনা তীব্র ছিল। আর এ কারণেই ইরানের আলেমদের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে ইরানের জনগণ শাহ-সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। শাহ সরকার তো তৎকালীন পারস্য রাজা খসরুর নীতিতে সরকার পরিচালনা করত। শাহ সরকার রাজা খসরুর মত স্বৈরাচারী ও ভোগবিলাসী ছিল। তাহলে ইরানের জনগণ কেন অভ্যুথান করল?    

 

ইরানের জনগণ বিরাজমান নীতি ও সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরেনি। ইরানের জনগণ জরথ্রুষ্টবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে, গ্রহণ করেছিল ইসলাম। ইরানের জনগণ তামাক আন্দোলন, তেল জাতীয়করণের আন্দোলন করেছে তৎকালীন শাসকদের বিরুদ্ধে। ইরানের আলেম ও জনগণ দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজতান্ত্রিক শাহ্‌ সরকারের প্রতিও আজ্ঞাবহ ছিল না। তাহলে কি কারণে শাহের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুথান করতে হল? এর মূল কারণ কি জাতীয়তাবাদ? নাকি ইসলাম? অভ্যুত্থানের কারণ সম্পর্কে ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেন- “শাহের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের অভ্যুত্থানের একটি কারণ হলো দখলদার ইসরাইলের প্রতি তার বিরামহীন সমর্থন।”  

 

ইরান যদি জাতীয়তাবাদী হয় তাহলে কেন ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের ইরান সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছে? কেন ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি ‘হিজবুল্লাহ’ লেবাননের জনগণের জন্য কাজ করে চলছে, লেবাননকে মুক্ত করেছে ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে? জাতীয়তাবাদই যদি মূল হয়, তাহলে আয়াতুল্লাহ নিমরের হত্যায় কেন ইরানের আলেম ও  জনগণ বিক্ষুব্ধ হল?  কেন নাইজেরিয়ার বিপ্লবী নেতা ইব্রাহীম জাকজাকির দলের উপর নির্যাতন ও নিপীড়নের কঠোর প্রতিবাদ জানায় ইরানের সরকার? এর মূল কারণ ইসলামের মূলনীতি; কেননা ইসলাম মুমিনদেরকে অত্যাচার, নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেয়, তা যে দেশেই হোক না কেন।

 

হয়ত কেউ কেউ বলবেন যে, ইরান শিয়াদের পক্ষাবলম্বন করছে অন্যদিকে সৌদি সুন্নীদের পক্ষ নিচ্ছে। এর মানে দ্বন্দ্বের মূলে আছে শিয়া-সুন্নী বিভাজন- এমন প্রচারণাকে কেউ কেউ যুক্তিসঙ্গত মনে করতে পারে। ইরান যদি শিয়াপন্থি হয় তাহলে কেন ফিলিস্তিনের সুন্নী মুসলমানদের সাহায্যে ইরান সবচেয়ে বেশি অগ্রসর, কেন আরব দেশগুলো ফিলিস্তিনের সুন্নী মুসলমানদের সাহয্যে এগিয়ে আসছে না? ফিলিস্তিনের শত্রু ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনী কেন এত সোচ্চার ছিলেন? কেন ইমাম খোমেনী ইসরাইলের  দখলদারিত্বের অবসানে মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান? কারণ কি মাযহাবগত অনৈক্য ও বিভাজন? নাকি ঐক্যের বিশুদ্ধ প্রচেষ্টা?

 

বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনী (রহ.) কি ঐক্যের আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়েছেন ? নাকি বিভাজনের আহ্বান ? তাহলে কেন ইমাম খোমেনী (রহ.) রসূল (সা.) এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ পালনের আহ্বান জানান? বিপ্লবের নেতা কি আরব-ইরান কিংবা শিয়া-সুন্নী বিভাজনকে উস্কে দিয়ে কোনো কথা বলেছেন?  না, বরং তিনি বিভিন্ন ভাষণে আরব-আজম, তুর্কী-ফার্সি ভেদাভেদ ভুলে মুসলিম রাষ্ট্রের শাসকদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান। ‘আরব’ই যদি ইরানের শত্রু হয়ে থাকে তাহলে কেনই বা ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেন- “আমাদের সকল দুর্ভোগ আমেরিকার কারণে, আমাদের সকল দুরবস্থা এই ইসরাইলের কারণে। আমাদের জনগণের প্রত্যেকেই আজ আমেরিকাকে তাদের এক নম্বর শত্রু বলে জানে।”

 

মোটকথা ইরানের জনগণ শুধু পারস্যের রাজা খসরুর নীতিকেই প্রত্যাখ্যান করেনি, প্রত্যাখ্যান করেছে বর্ণবাদী নৃতাত্ত্বিক চেতনা। মূলত খোদায়ী চেতনায় সমৃদ্ধ ইরানি জাতি আমেরিকা-ইসরাইলের সাম্রাজ্যবাদের মোকাবিলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ইমাম খোমেনী (রহ.) শিয়া-সুন্নী সম্প্রদায়ের বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ইসলামের দুশমন এবং রাশিয়া ও আমেরিকার দালাল বলে চিহ্নিত করেন। বর্তমানে ইরানের রাহবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেনী সুন্নী মাযহাবের সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের অসম্মান করাকে হারাম বলে ঘোষণা করেন। ইরানে যে বিপ্লব সঙ্ঘটিত হয় তা কোন সম্প্রদায়ের বিপ্লব ছিল না। কেননা এ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে শিয়া-সুন্নী, নিম্নবিত্ত কৃষক- শ্রমিক, মধ্যবিত্ত- উচ্চবিত্ত ও  ছাত্র সমাজ। ঐক্যই যেহেতু এ বিপ্লবের ভিত্তি ছিল সেই ঐক্যের ভয়ে আজ সাম্রাজ্যবাদীরা ভীত হয়ে পড়েছে। সে কারণে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা-ইসরাইল জঙ্গীগোষ্ঠী সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও রক্তপাত ঘটিয়ে চলছে। সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন এজেন্টদের কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে অনৈক্য ও দ্বন্দ্বে পরিণত করতে সাম্রাজ্যবাদীরা আরব দেশের স্বৈরতান্ত্রিক ও রাজতান্ত্রিক রাজা-বাদশাদের কাজে লাগায়। আমেরিকার পরামর্শে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম ইরানের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সাদ্দামের ভয় ছিল ইরাকের মুসলমানরা ইরানের বিপ্লবী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সাদ্দামের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সেই ভয়কে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা ইরানের বিপ্লবী সরকার ব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্র করে। আমেরিকাই আবার আরব দেশগুলোকে উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রবৃত্ত করে। আরবদেশগুলো কেন আর একটি আরব দেশ ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হল? এর মূল কারণ মার্কিন-ইসরাইলের সাম্রাজ্যবাদ। আরব দেশগুলো যদি আরব জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হতো তাহলে ১৯৯১ সালে আরব-আরব যুদ্ধ হতো না। ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা কি আরব নয়? তাহলে কেন আরব দেশের শাসকবর্গ আরব ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধাচরণ করছে না? মূলত আরব শাসকবর্গের কাছে জাতীয়তাবাদ মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য হলো ক্ষমতার স্থায়িত্ব। স্বৈরাচারী শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে আরব শাসকবর্গ মার্কিন ইসরাইলের তাঁবেদারী করে চলছে। মার্কিন আজ্ঞাবহ সৌদিআরব মার্কিন স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতেই ১৯৮৭ সালে সৌদি সৈন্যরা পবিত্র হজ পালনরত কয়েকশত হাজীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মার্কিন অনুগত শাসকবর্গকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই সৌদি সরকার ইয়েমেনে জঙ্গীবিমান হামলা করে মার্কিন বিরোধীদের নির্বিচারে হত্যা করে চলছে। সৌদি রাজতন্ত্র চিরস্থায়ী করতে সৌদি শাসক রাজতন্ত্র বিরোধীদের হত্যা করছে, কারাবরণে বাধ্য করছে, নির্যাতন করছে। অন্যদিকে পাশ্চাত্যধর্মী মিডিয়া সবকিছুকেই শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব নামে চালিয়ে দিচ্ছে। মূলত লড়াইটা শিয়া বনাম সুন্নী নয়, আরব বনাম ইরান নয়, লড়াইটা ইসলামের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদের এবং স্বৈরতন্ত্রের।#

 

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
 
(মতামত প্রকাশিত বক্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব,  রেডিও তেহরানের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভূক্ত নয়।)

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন