এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 04 ফেব্রুয়ারী 2010 05:16

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী-২০১০

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী-২০১০
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ভবিষ্যৎ
  ১১ই ফেব্রুয়ারি, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ৩১ তম বিজয় বার্ষিকী। অনেক চড়াই-উৎরাই, দেশী-বিদেশী ও আন্তর্জাতিক অনেক ষড়যন্ত্র আর বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এ বিপ্লব যেন অভ্রভেদী হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের নানা স্বর্ণমুকুটে খচিত এ বিপ্লব কয়েক শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরো অনেক বড় সাফল্য এ বিপ্লবের জন্য অপেক্ষা করছে বলে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাই ৩২ তম বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের অতীত প্রেক্ষাপট, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছু বক্তব্য তুলে ধরব।  

ইরানের ইসলামী বিপ্লব কোনো আকস্মিক ঘটনার ফসল ছিল না। এটা ছিল ইরানী জনগণের দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল। অথচ পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো এ বিপ্লবকে কেবল "শাহের পতন" বা "শাহ-বিরোধী অভ্যুত্থান" বলে উল্লেখ করছে। কিন্তু বাস্তবে এটা ইসলামী বিপ্লবের অনেকগুলো সাফল্যের মধ্যে অন্যতম। এ বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র অসাধারণ ভূমিকা ও জনগণের ওপর তার অপরিসীম প্রভাব এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘটনাগুলো বিশ্ব অঙ্গনে সুদূর-প্রসারী প্রভাব ফেলেছে। অব্যাহত এসব প্রভাব ছাড়াও গত দুই দশকে ইসলামী বিপ্লবের তরণী পরিচালনা ও তাকে দিনকে দিন আরো সম্মানজনক অবস্থায় এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র যোগ্য উত্তরসূরী হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অতুলনীয়।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই নব্য-উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্যবাদীদের শোষণ বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে। ইরানের তেল-শিল্প খাতে বৃটেনের শোষণ বন্ধ করার আন্দোলন ছিল এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ইরানের সর্বস্তরের জনগণের এই স্বাধীকার বা মুক্তিকামী-আন্দোলন সফল হওয়ার ফলে দেশটির তেল-শিল্পের জাতীয়করণ করা সম্ভব হয়, এবং গঠিত হয় মোহাম্মাদ মোসাদ্দেকের নেতৃত্বাধীন দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী সরকার। কিন্তু বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে একদল সেনা কর্মকর্তার মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারি শাহ পুনরায় ফিরে এসে ক্ষমতাসীন হয়। ৫০'র দশকের প্রথম দিকের ঐ ঘটনার দশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের শহরগুলোতে, বিশেষ করে তেহরান ও কোমে আবারও মুক্তিকামী-আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। ১৯৬৩ সালের জুন মাসের ঐ গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করা হয়। এ ঘটনায় ইরানের বহু বিপ্লবী জনতা শাহাদত বরণ করেন। গণঅভ্যুত্থান দমন করা হলেও তখনই ইসলামী বিপ্লবের কৌশলগত রূপ-রেখা গড়ে উঠে। এ গণঅভ্যুত্থানের অধিকাংশ শ্লোগানেই ছিল ইসলাম প্রতিষ্ঠার আহ্বান এবং জনগণের নেতা হিসেবে সর্বস্তরে ইমাম খোমেনী (রঃ)'র নাম উচ্চারিত হতে থাকে। ভীত-সন্ত্রস্ত স্বৈরাচারী শাহ মহান ইমাম খোমেনী (রঃ)কে নির্বাসনে পাঠান।

 

শাহ ভেবেছিল, ইমাম খোমেনী (রঃ)কে নির্বাসনে পাঠানো হলে গণ-আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে এবং ইরানে মার্কিন শোষণ ও মোড়লীপনা নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার তল্পীবাহক শাহ জনগণের মধ্যে সুপ্ত ক্ষোভের ছাই-চাপা আগুন দেখতে পারে নি। ১৯৭৮ সালের শীতকালে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)-কে অবমাননা করে একটি নিবন্ধ ছাপানো হলে গণ-অসন্তোষের ঐ ছাই-চাপা আগুন আবারও প্রজ্জ্বলিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ইরানের সর্বত্র। অবশেষে ১৯৭৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি গণ-অসন্তোষের এই আগুনেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তির মদদপুষ্ট শাহের বজ্র-সুকঠিন রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন।


গত তিন দশকে দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের অধিকাংশই নস্যাত করে ইসলামী বিপ্লব তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বিপ্লব-বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ, ইরানে হামলার জন্য ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দামকে উৎসাহ দেয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিরতিহীন ইরান-বিরোধী প্রচারণা- এসবই ছিল ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর অব্যাহত ষড়যন্ত্রের কিছু অধ্যায়। জনগণ ও নেতৃবৃন্দের দৃঢ় ঈমান এবং ঐক্যই এসব ষড়যন্ত্র নস্যাতে মূল ভূমিকা রেখেছে।

 

রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। অন্যদিকে ইরান এখন উন্নয়ন বা অগ্রগতির প্রায় সব দিকেই উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে বা তাদের খুব কাছাকাছি পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরমাণু গবেষণা থেকে শুরু করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মত বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশেষ করে ন্যানো প্রযুক্তি, মৌলিক কোষ বা স্টেম সেল ও ক্লোনিং সংক্রান্ত গবেষণায় ইরানের অগ্রগতি অত্যন্ত দর্শনীয় বা চোখ-ধাঁধানো। উপগ্রহ ও মহাশুন্যযান উৎক্ষেপণ তথা মহাশুণ্য গবেষণায় ইরানের সাফল্য পাশ্চাত্যকে করেছে হতবাক এবং মুসলিম বিশ্বকে করেছে গর্বিত। আর এইসব অগ্রগতিতে আতঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এখনও ইরানের সাথে তাদের চরম শত্রুতা অব্যাহত রেখেছে। চতুর্থ দশকে উপনীত ইরানের ইসলামী বিপ্লব বরং এখন আগের চেয়েও জটিল শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ ও জনগণও গত ৩১ বছরের মত এখনও সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত।

 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও ১৬টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টেও ইসলামী ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে শান্তিপূর্ণ বলে স্বীকার করে নেয়া সত্ত্বেও তেহরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশ ইসরাইল, বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানী প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তারা প্রযুক্তিগত এ বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যায় রূপান্তরিত করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা তার সর্বসাম্প্রতিক রিপোর্টসহ এ যাবত ২১ টি রিপোর্টে ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান তার বিরুদ্ধে পরমাণু সংক্রান্ত পশ্চিমা প্রচারণাকে পারমাণবিক বৈষম্য বা বর্ণবাদ বলে অভিহিত করেছে এবং হুমকী বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে দূর্বল বা নতজানু করা যাবে না বলে ঘোষণা করেছে। এ ব্যাপারে পাশ্চাত্যের সাথে ইরানের দ্বন্দ্ব আরো অনেক দিন হয়তো অব্যাহত থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত তেল জাতীয়করণ আন্দোলনের মত পরমাণু ক্ষেত্রেও ইরানের ন্যায্য দাবী বিশ্ব সমাজে স্বীকৃতি লাভ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

কয়েকটি আধিপত্যকামী দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়-বার্ষিকীর গণ-শোভাযাত্রার দিকে দৃষ্টি রাখছে। বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর অপ্রীতিকর কয়েকটি ঘটনা ও কৃত্রিম সংকটের প্রেক্ষাপটে ইঙ্গ-মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন যে ইরানের জনগণ ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে গভীর ফাটল সৃষ্টি করা সম্ভব হবে । কিন্তু তারা হয়তো এটা ভুলে গেছেন যে, ইরানের সাহসী ও বিপ্লবী জাতি এখনও এই বিপ্লবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ইসলামের আহ্বানে তারা আজো অতীতের মতই সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়। ইরানের ইসলামী নেতৃবৃন্দের আহ্বানে গত ত্রিশে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী গণ-বিক্ষোভে কোটি জনতার অংশগ্রহণই এর বড় প্রমাণ। তাই আজকের শোভাযাত্রায়ও সর্বস্তরের ইরানী জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইসলামী বিপ্লবের পক্ষ থেকে ইহুদিবাদী ও ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির মুখে আরো একটি বড় মুষ্টাঘাত।

 

ইসলামী বিপ্লব এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি  

র্তমান বিশ্বে 'গণতন্ত্র' ও 'মানবাধিকার' বহুল ব্যবহৃত ও আলোচিত দুটি পরিভাষা। পাশ্চাত্যের সরকারগুলো নিজেদেরকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ধারক ও বাহক বলে দাবি করার পাশাপাশি তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক খেলায় মেতে রয়েছে। কিন্তু তারা আসলেই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না সে ব্যাপারেও নানা মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়ে গেছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পাশ্চাত্যের সরকারগুলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি কেবল ততক্ষণ পর্যন্তই শ্রদ্ধাশীল যতক্ষণ পর্যন্ত তা তাদের স্বার্থের অনুকূলে থাকে। কোন দেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী হবার পরও যদি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী এসব দেশ ঐ গণতন্ত্রকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না। ফিলিস্তিনের সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের পর এ বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো ইস্যুগুলোকে বর্তমানে যেভাবে স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশ্ব ইতিহাসের আর কোন পর্যায়ে কখনোই সেভাবে ব্যবহৃত হয়নি। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশগুলোতে স্বাধীনতার দাবি জোরালো উঠায় উপনিবেশবাদীরা স্থানীয় জনগনের উপর অন্যায়-অন্যাচার বৃদ্ধি করে। উপনিবেশবাদীদের সেই অন্যায়-অত্যাচার ও হত্যা-নির্যাতনের মাত্রা মধ্যযুগে গীর্জাগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধযজ্ঞকেও হার মানিয়েছে।

 

ফ্রান্স, বৃটেন, বেলজিয়াম ও হল্যান্ড; আফ্রিকা,এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার লাখ লাখ স্বাধীনচেতা মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে আলজেরিয়ায় স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে ফ্রান্স নারী ও বৃদ্ধসহ দশ লক্ষ স্বাধীনচেতা মানুষকে হত্যা করেছে। এছাড়া, উত্তর আমেরিকায় পরিপূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইউরোপীয়রা আমেরিকায় প্রবেশ করে লক্ষ লক্ষ রেড ইন্ডিয়ানকে হত্যা করে এবং আফ্রিকার লক্ষ লক্ষ কৃষ্ণাঙ্গকে তারা জোর পূর্বক আমেরিকায় এনে দাসত্ব করতে বাধ্য করে। জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির নিরপরাধ মানুষের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বোমা বর্ষণ করে ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতা দান করার নামে ভিয়েতনামের লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরাক ও আফগানিস্তানে এখনও সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক বলে দাবি করলেও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্বের নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারীদেরকেও সমর্থন দিয়ে এসেছে। ইরানের স্বৈরশাসক রেজা শাহকেও সার্বিক সমর্থন দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের সার্বিক সমর্থন পেয়েও রেজা শাহ টিকে থাকতে পারেনি। ইরানের জনগণ ইমাম খোমেনী (রহঃ)-র নেতৃত্বে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট ঐ স্বৈরশাসককে উৎখাত করতে সক্ষম হয়। ১৯০৫ সালে মাশরুতিয়াত বা সাংবিধানিক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে সর্ব প্রথম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য ছিল শাহের ক্ষমতা হ্রাস এবং গণভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সে সময় ঐ সাংবিধানিক বিপ্লব পরিপূর্ণ ভাবে সফল হলে ইরানে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ চীরতরে শেষ হয়ে যেত।

 

সাংবিধানিক আন্দোলন সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন করবে, এটা বুঝতে পেরেই বৃটেন ও তার সহযোগীরা তা ব্যর্থ করার চেষ্টা চালায়। এরই মাঝে স্বৈরশাসক রেজা খান তার ছেলে মোহাম্মদ রেজা খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। বাহ্যিক এ পরিবর্তন ইরানের স্বাধীনচেতা জনগণের মনে দেশের আভ্যন্তরীণ স্বৈরতন্ত্র ও বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ব্যাপারে নতুন করে শক্তি যোগায়। এর ফলে তেল সম্পদকে জাতীয়করণ সম্ভব হয়। তৎকালীন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ড: মোসাদ্দেকের সরকার এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বৃটেন তেল সম্পদকে জাতীয়করণের পদক্ষেপ ঠেকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় নানা চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের কারণে তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ কারণে বৃটেন ড: মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা চালায় এবং ১৯৫৩ সালের আগস্ট মাসে মোসাদ্দেক সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান সংঘটিত করে। এই অভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদ রেজা শাহ বিদেশ থেকে ইরানে ফিরে আসেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে ২৫ বছর ধরে ইরানে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখেন।

 

মোহাম্মদ রেজা শাহ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের অন্যায় সংগঠিত করে। যারাই প্রতিবাদমুখর হয়েছে তাদেরকেই গ্রেফতার করেছে,প্রয়োজনে হত্যা করেছে। শাহের গোয়েন্দা বাহিনী সাভাক স্বাধীনচেতা হাজার হাজার মানুষকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করেছে। কিন্তু এই পুরো সময়টায় মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিদার যুক্তরাষ্ট্র স্বৈরাচারী শাহকে সমর্থন দিয়েছে। শাহের পেটোয়া বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারী শাহ এত কিছুর মাধ্যমেও বিপ্লবী ইরানিদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। অবশেষে ১৯৭৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিযে ইরানে আড়াই হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটে।

 

ইসলামী বিপ্লব ঠেকাতে ব্যর্থ হবার পর যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কৌশলে ইসলামী সরকার ব্যবস্থার পতন ঘটানোর চেষ্টা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের সীমান্ত প্রদেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন উস্কে দেয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহঃ)-র দিকনির্দেশনা ও জনগণের সচেতনতা সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়নি। ইমাম খোমেনী (রহঃ) গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সে সময় অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ, ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান এবং সাদ্দামকে দিয়ে সামরিক হামলা করিয়ে বিপ্লব ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়েছে। পাশাপাশি পাশ্চাত্যের গণমাধ্যম ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালাতে থাকে এবং ইসলামী ইরান সম্পর্কে অবাস্তব চিত্র তুলে ধরতে থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধ, দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা এবং আট বছরের চাপিয়ে দেয়া সামরিক যুদ্ধ ইরানি জনগণের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থানে চীড় ধরাতে পারেনি। ১৯৮৮ সালে ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের ফলে ইরানের অপুরণীয় ক্ষতি হলেও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থেকেছে। যুদ্ধের পর ইরানের বিপ্লবী জনতা কাধে কাধ মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে যাবার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করে এবং ঐ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত দুই দশকে ইরানে অর্থনৈতিক ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। পরমাণু ও ন্যানো প্রযুক্তি অর্জনসহ ইরানি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির ব্যাপারে অপপ্রচারের মাধ্যমে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত ৩১ বছরের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্বেষী তৎপরতা ইরানি জাতির ঐক্য ও দৃঢ়তায় ফাটল ধরাতে পারেনি এবং ইরান ক্রমান্বয়ে উন্নতির শিখরে স্থান করে নিচ্ছে।

 

ইরানের ইসলামী বিপ্লব মোকাবেলায় পাশ্চাত্যের নয়া কৌশল

১৯৭৯ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারি ইরানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বিপ্লব বিজয় অর্জন করে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক ভূমিকম্প হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট রাজতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটে এবং ধর্ম ভিত্তিক জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইরানকে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি দ্বীপ হিসেবে অভিহিত করতো। এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল। ইরানকে সে সময় কার্যত যুক্তরাষ্ট্রই নিয়ন্ত্রণ করতো। ফলে সাম্রাজ্যবাদকে প্রত্যাখ্যান এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিপ্লব সফল হবার কারণে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রথম থেকেই তারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ওঠেপড়ে লাগে।

 

সময়ের পরিক্রমায় কমিউনিস্ট ব্লকের পতন ঘটলেও ইসলামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে শত্রুতায় কোন ভাটা পড়েনি। পাশ্চাত্য এখন নব নব কৌশলে ইসলামী ইরানকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত তিন দশকের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এলেও তারা তাদের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ থেকে সরে দাড়ায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইসলামী বিপ্লব সফল হবার থেকেই ইরান বিরোধী বিভিন্ন প্রচার শুরু করেছিল। এখনও সেই অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। তারা প্রথমেই প্রচার চালিয়েছিল, ইরানের ইসলামপন্থীরা নিজেদের দেশের স্টাইলে অন্যান্য মুসলিম দেশেও ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রচারে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক সরকারগুলো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে বিপ্লব সফল হবার পর কিছু দিন না যেতেই পাচ্য ও পাশ্চাচ্যের বৃহৎ শক্তির সমর্থনে ইরাকের তৎকালীন সরকার ইরানের উপর হামলা চালায়।

 

ইঙ্গ-মার্কিন শক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার অধিকারী দেশগুলোতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রভাব পড়তে পারে, এই প্রচারণা চালিয়ে আরব দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। এ কারণে আরব মুসলিম দেশগুলোও ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থার পতন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন চেষ্টা চালায়। ইরানের উপর ইরাকের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিপ্লবের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের প্রকৃত অবস্থান তেহরানের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইরান পরবর্তীতে তারই ভিত্তিতে বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ করে। কিন্তু শত্রুরা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েও ইসলামী সরকার ব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারেনি। যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্য হাসিল না হলেও তারা তাদের বিদ্বেষী তৎপরতা বন্ধ করেনি।

 

ইসলামী বিপ্লবের পর গত তিন দশকে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র সব সময় অব্যাহত ছিল। শত্রুরা সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। কিন্তু ইরানি জনগণ ও সরকারের সচেতনতা ও সতর্কতা শত্রুদের সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানি জাতির তিন দশকব্যাপী প্রতিরোধ ইসলামী বিপ্লবকে এখন আরও শক্তি ও দৃঢ়তা দিয়েছে। ইসলামী সরকার ক্রমেই আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে সময়ের সাথে সাথে ইসলামী ইরানের শত্রুরা তাদের বিদ্বেষী তৎপরতার ধরন ও পন্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে তারা বিজ্ঞান ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রগতি স্তব্ধ করার জন্য বিজ্ঞানী হত্যার পথও বেছে নিচ্ছে। পাশপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানকে একঘরে করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও জোর চেষ্টা চলছে। সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যর্থ হবার পর এখন ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র,বৃটেন ও দখলদার ইসরাইলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন ইসলামী বিপ্লব মোকাবেলার জন্য ইন্টারনেট ও গণমাধ্যমকে আরও বেশি কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে, পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম অশুভ এই লক্ষ্য এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। এসব গণমাধ্যম ইরানের মানবাধিকার, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও পরমাণু ইস্যুসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান ও ইসলামী বিপ্লবের ব্যাপারে মনগড়া তথ্য তুলে করছে।

 

ইরানের ১২ ই জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা উস্কে দেয়ার পেছনে পাশ্চাত্যের ভূমিকা এখন সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো কখনোই এই বাস্তব দিকটি তুলে ধরেনি। ইরানের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের আন্দোলনকে ফলাও করে প্রচার করলেও আপামর জনগণের অবস্থান তারা কখনোই তুলে ধরে না। পাশ্চাত্য ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক ও মিডিয়া যুদ্ধের অংশ হিসেবে নতুন নতুন মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করছে।

 

ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে দূর্বল অথবা এর পতন ঘটানোই এখনও তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তারা মুসলিম বিশ্বে ইসলামী জাগরণ স্তব্ধ করতে চায়। ইসলামী শাসন ব্যবস্থার পতন এবং ইরানি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি স্তব্ধ করার লক্ষ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সহিংসতা উস্কে দেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন এখন ইরানের চাপ বৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি করছে এবং স্থায়ী ঘাটি প্রতিষ্ঠা করছে। এক কথায় তারা ইরানকে অবরুদ্ধ করে ফেলতে চায়।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো, জর্জিয়া ও ইউক্রেনের মতো ইরানেও সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা বিপ্লব সংঘটিত করতে চেয়েছিল। এ জন্য তারা গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পরবর্তী সময়কে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তারা তাতে সফল হতে পারেনি। ইরানের জনগণ সচেতন হবার কারণে তাদের সে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে। মার্কিন মদদে সরকারের পতন ঘটিয়ে জর্জিয়া ও ইউক্রেনের জনগণের যে কোন লাভ হয়নি,তা ইরানিরা ভালো করেই জানে। ইউক্রেনের গত মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সে কারণেই দেশটির জনগণ মার্কিনপন্থী প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। ইরানি নেতৃবৃন্দের সঠিক দিক-নির্দেশনা ও জনগণের সচেতনতার কারণে ভবিষ্যতেও শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হবে ।#{jcomments on}

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন