এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 02 ফেব্রুয়ারী 2013 18:15

ইসলামী বিপ্লব,বলদর্পিতার গর্বনাশ এবং ইসলামী জাগরণের মূলপ্রেরণা

ইরানে হযরত ইমাম খোমেনী (রহ) এর নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে যে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল সেই বিপ্লব আজ বিভিন্ন দেশে বলদর্পী শাসকদের বিরুদ্ধে ইসলামী জাগরণের নেপথ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। ইমামের নেতৃত্বে জনসাধারণ, আলেম সমাজ, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনশক্তি,বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীগণ সকলেই জুলুমের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই ঐক্যই বিপ্লবকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বিপ্লব বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাহী শাসনের যেমন অবসান হয় তেমনি জন্ম হয়েছিল ইরানের ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার। নবীন এই সরকার ব্যবস্থার চৌত্রিশ বছর পর বিপ্লবের কী অবস্থা-সেদিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

 

 

ইরানের ইসলামী বিপ্লব, বিজয়ের চৌত্রিশ বছর পরও একইরকম প্রাণশক্তিতে অটুট রয়েছে। এখনো বিপ্লব আত্মবিশ্বাসী চেতনা, স্বাধীনতার চেতনায় সর্ব ক্ষেত্রেই সমানভাবে বিরাজমান। এ কারণেই ইরানের ওপর শত্রুরা বিচিত্র অবরোধ আরোপ করার পরও ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে। ইসলামী বিপ্লবের বিজয়কে শত্রুরা কোনোভাবেই ঠেকাতে পারে নি। শত ষড়যন্ত্রের পরও বাতিল বা মিথ্যার ওপর সত্যের বিজয় হয়েছে। ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাও প্রবর্তিত হয়েছে। ইসলামী বিপ্লবের এই যাত্রাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে হেন কোনো পন্থা ছিল না যা তারা কাজে লাগায় নি। ইরান বিরোধী এইসব কৌশলেরই একটি হলো নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আরোপ। বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই শত্রুরা ইরানের ওপর অবরোধ কার্যকর করেছিল। কিন্তু এই অবরোধের রাজনীতিও ব্যর্থ হয়েছে। ইরানী জাতি যেহেতু আধিপত্যবাদের অপমান সহ্য করতে নারাজ সেজন্যে তারা এই কৌশলটি ব্যবহার করে কোনো লাভ হয় নি। বরং আধিপত্যবাদকে ইরানী জাতি দৃঢ়ভাবে রুখে দায়ড়িয়েছে। ইরানী জাতির এই প্রতিরোধকামী চেতনা অন্যান্য জাতির জন্যেও অনুসরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে।

 

 

বিপ্লব বিজয়ের ৩৪ বছর পর এখনো ইরানী জনগণের মনে এখনো আধিপত্যবাদ বিরোধী মনোভাব তুঙ্গে। বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনগণের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়েই এই দাবির সত্যতা মেলে।যেমন বিপ্লব বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিছিল। লক্ষ লক্ষ লোক এই ২২শে বাহমানের মিছিলে যোগ দেয়। তাছাড়া পশ্চিমাদের ব্যাপক প্রচারণা উপেক্ষা করে ইরানের জনগণ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে যেভাবে আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট দিতে যায়, তা থেকেও ইরানের জনগণের এই আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনার প্রমাণ মেলে।

 

 

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখ দাঁড়ানো এবং স্বাধীনতাকামী যে চেতনার ফলে ইসলামী বিপ্লব বিজয় লাভ করেছিল, আজ সেই বিপ্লব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসলামী জাগরণের নেপথ্য প্রেরণায় পরিণত হয়েছে। যেসব জাতি দশকের পর দশক ধরে স্বৈরাচারী শাসকদের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত ছিল, যাদের স্বাধীনতাকামী কোনো চেতনাই ছিল না, তারা এখন জেগে উঠেছে এবং স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

 

 

 সম্মান ও মর্যাদাবোধ, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্পৃহা, স্বাধীনতাকামিতা এবং ইসলামপ্রীতি ইত্যাদির ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইসলামী জাগরণমূলক আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো ইসলামী বিপ্লবেরই নেপথ্য গুণাবলি। ইরানের সবোর্চ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যেমনটি বলেছেনঃ ইসলামী জাগরণ ইরানের ইসলামী বিপ্লব থেকেই শুরু হয়েছে। এখন সেই জাগরণ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃতি লাভ করছে।

 

দু’ বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তর আফ্রিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জনগণ ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে ইসলামী ও স্বাধীনতাকামী আন্দোলন শুরু করেছে। মাথানত করে না থাকার লক্ষ্যেই তাদের এই আন্দোলন। তিউনিশিয়া হলো সর্বপ্রথম কোনো দেশ যে দেশে ইসলামী জাগরণের সূত্রপাত হয়েছিল সবার আগে। ইসলামী শিক্ষার আলোকে স্বাধীন সরকার ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সে দেশের জনগণ আধিপত্যবাদীদের দোসর স্বৈরাচারী শাসক যেয়নুল আবেদিন বিন আলীকে তিউনিশিয়া থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল।

 

 

তিউনিশিয়ার পর ইসলামী গণজাগরণের ঢেউ লেগেছিল মিশরে। বিগত ত্রিশ বছর ধরে এই মিশর ছিল পরিপূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোসর। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি মিশরের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। এই দিন মিশরের জনগণের আন্দোলন বিজয় লাভ করে। মিশরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক ক্ষমতা থেকে এই দিন সরে যেতে বাধ্য হয়।

 

 

 

ইসলামী জাগরণের মধ্য দিয়ে তিউনিশিয়া এবং মিশরের স্বৈরাচারদের পতন ঘটায় এসব দেশে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী মনোভাব আগের তুলনায় আরো বেশি শক্তিশালী হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মিশরের জনগণ এখন মুসলমানদের অভিন্ন শত্রু ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ হোসনি মোবারকের শাসনামলে মিশর ছিল পুরোপুরি ইসরাইলের হাতের পুতুল। বর্তমান মিশরের প্রেসিডেন্ট ইসলামপন্থী এবং যথাযথ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছেন। বহু বছর পর মিশরের জনগণ হোসনি মোবারকের পতনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরেছে। তারা এখন ইসলামী শিক্ষা ও নীতিমালার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ পেতে চায়। ইসলামী গণজাগরণের ফলে ইসলাম এবং মুসলমানদের চিন্তা চেতনা বিরোধী কোনো আন্দোলন হলেই দ্রুততার সাথে মুসলমানদের পক্ষ থেকে তার নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়। সবোর্পরি বলা যায় যেসব দেশে ইসলামী গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সেসব দেশে সামান্যতম বলদর্পিতা এবং ইসলাম অবমাননা হলেও জনগণ রাস্তায় নেমে আধিপত্যবাদ বিরোধী শ্লোগান দেয়।

 

 

তিউনিশিয়া এবং মিশরের পর লিবিয়া, ইয়েমেন এবং বাহরাইনেও ইসলামী জাগরণের সৃষ্টি হয়। লিবিয়া এবং ইয়েমেনের লোকজনও মিশর এবং তিউনিশিয়ার মতোই নিজেদের দেশে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিপূর্ণ বিপ্লবের লক্ষ্যে আন্দোলন চালাতে থাকে। আর বাহরাইনে প্রতিদিনই জনগণ রাজপথে নেমে আলে খলিফার পতনের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের মাঝে ঐক্য বজায় থাকলে সেখানেও ইসলামী জাগরণমূলক আন্দোলন তার লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে-তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা এসব আন্দোলন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী আন্দোলনের নেপথ্য প্রেরণায় উজ্জীবিত।#

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন