এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 01 ফেব্রুয়ারী 2014 15:32

ইসলামী বিপ্লব: প্রতিরোধ ও সমৃদ্ধির ৩৫ বছর

ইসলামী বিপ্লব: প্রতিরোধ ও সমৃদ্ধির ৩৫ বছর

ইসলামী গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার উৎসভূমি হলো ইরান। এই নয়া ব্যবস্থা আধিপত্যবাদের বিরোধী এবং মানবীয় মর্যাদা সংরক্ষণ আর ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোর মূল্যায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে কারণে বিপ্লব বিজয়ের শুরু থেকেই ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ এবং বলদর্পী শক্তিগুলোর আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে। ৩৫ বছর ধরে বিচিত্র ষড়যন্ত্র আর বাধা প্রতিবন্ধকতার পরও ইসলামী সরকার ব্যবস্থা তার আপন অস্তিত্ব নিয়ে সগর্বে আজও ইসলাম ও মুসলমানদের স্বরূপ তুলে ধরছে বিশ্বময়।

 

সেইসাথে ইসলামী বিপ্লবের সংস্কৃতি, ইরানী জাতির অকুতোভয় সংগ্রাম, ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা বিশ্বের বিভিন্ন জাতির সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে, যার কারণে তারাও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের ক্ষেত্রে বিপ্লবী জাগরণে ইসলামী ইরানকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই আদর্শ ইমাম খোমেনী (রহ) এর চিন্তাদর্শ থেকে উঠে এসেছে। যাই হোক ইসলামী জাগরণ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাপার নয় বরং সময়ের প্রয়োজনে এই জাগরণ যুগে যুগে যেমন সংঘটিত হয়েছে তেমনি ভবিষ্যতেও জাগরণের ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই যখনই জাগরণ দেখা দেবে তখনই ইমাম খোমেনী (রহ) এর চিন্তাধারাপুষ্ট ইসলামী বিপ্লবের চেতনা সেই জাগরণের নেপথ্য প্রেরণা হয়ে কাজ করবে। বিপ্লবের এই দীর্ঘ স্থায়িত্ব নিয়ে এখানে  আলোচনা করার প্রয়াস পাব।

 

ইরানী জাতির ওপর আধিপত্যবাদের জুলুম নির্যাতনের যে কালোছায়া বিস্তার করে ছিল ইসলামী বিপ্লব বিজয় সেই আগ্রাসী ছায়াকে সরিয়ে দিয়ে ইরানী জাতির সামনে নতুন এক পথ তৈরি করে দিয়েছে। এই পথ উন্নয়নের পথ, অগ্রগতির পথ, স্বাধীনতা, সম্মান ও মর্যাদায় উন্নীত হবার পথ। কিন্তু আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবকালীন সংগ্রামের ধারা আজও শেষ হয় নি। বরং ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৩৫ বছর পর এখন সেই ধারা আরও পূর্ণতা পেয়েছে, আরও বিকশিত হয়েছে। এখন ইসলামী সরকার ব্যবস্থাও তাদের প্রকৃত শত্রু মিত্র চিনতে পেরেছে এবং কী করে শত্রুদের প্রতিহত করতে হয় সেই পন্থাও আগের তুলনায় অনেক বেশি আয়ত্ত করেছে।

 

বলদর্পী শক্তিগুলো কখনোই কোনো স্বাধীন দেশের অস্তিত্বকে কিংবা কোনো প্রতিরোধকামী দেশকে সহ্য করতে পারে না। সে কারণেই সেই শুরু থেকেই ইরানী জাতির ওপর সীমাহীন, সমাপ্তিহীন যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। বিপ্লব বিজয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত তারা যতভাবে সম্ভব ততরকমভাবে ইরানের ইসলামী সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। আমেরিকা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে, অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কোনঠাসা করার অপচেষ্টা চালিয়ে এমনকি তাদের আঞ্চলিক মিত্র শক্তিগুলোর সহায়তা নিয়েও চেষ্টা করেছে ইরানকে পঙ্গু করে দিতে। কিন্তু আজ পঁয়ত্রিশ বছর পর এতসব ষড়যন্ত্রের ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগের তুলনায় ইরানের অবস্থান এখন একেবারেই আলাদা। এই ভিন্ন চিত্র প্রমাণ করেছে শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্রই ইরানকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো পদক্ষেপই কাজে আসে নি। আর শত্রুদের এই ব্যর্থতা ইরানের জন্যে আরেকটি বিজয় এনে দিয়েছে যে বিজয়টি অর্জিত হয়েছে বলদর্পী এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে।

 

শত্রুদের এতসব ব্যর্থতা সত্ত্বেও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্রের মাত্রা কখনোই কমে নি বরং ষড়যন্ত্রের ধরন পাল্টেছে এমনকি নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের ধারার সূত্রপাত করেছে। নিঃসন্দেহে এতসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা সহজ ছিল না বরং যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে এবং হচ্ছে ইরানকে। এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র এবং তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোটা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মতে হুমকির মাত্রা বৃদ্ধিই প্রমাণ করছে ইসলামী সরকার ব্যবস্থা কতোটা মজবুত এবং শক্তিশালী। কেননা ইসলামী সরকার যদি শক্তিশালী না হত এবং এই সরকার ব্যবস্থার প্রভাব যদি ব্যাপক না হত তাহলে ইরানের শত্রুরা ইরানকে নিয়ে এতটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ত না।

 

সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমেরিকা আলোচনার টেবিলে বসলেও নেপথ্যে ঠিকই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে। এই যে আমেরিকা তাদের কৌশল পাল্টালো অর্থাৎ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে সংঘাত করার পরিবর্তে সংলাপের দিকে গেল তার কারণ হলো বলদর্পী শক্তিগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোবল নিয়ে রুখে দাঁড়ানো। মজার ব্যাপার প্রতিরোধের দৃঢ়তার ফলে ইরানের শত্রুদের মাঝেই ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এখন ইরানের ব্যাপারে দ্বিমুখি নীতি গ্রহণ করেছে। একদিকে তারা ইরানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আবার একইসাথে ইরানের বিরুদ্ধে তারা অবরোধও চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এরকম দ্বিমুখি নীতির কারণ হলো- হোয়াইট হাউজের সাথে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতবিশ্বাসগত বৈপরীত্য। যারা ওবামা সাথে ঘনিষ্ঠ তারা চায় না ইরানের সাথে কোনোরকম সংঘাতে যেতে। তাদের দ্বিমুখি নীতির আরেকটি দিক হলো ইরানের সাথে পশ্চিমাদের সংলাপ চালিয়ে নিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থ নিশ্চিত করা। সকল কৌশলের মোকাবেলায় ইরান ইসলামী বিপ্লবের পক্ষে যেভাবে দৃঢ়তার সাথে রুখে দাঁড়িয়েছে তার শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। সে কারণেই শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে যত পদক্ষেপই নিয়েছে ফলাফল হয়েছে শুধু অতীতের ব্যর্থতারই পুনরাবৃত্তি।

 

এছাড়া তাদের ভাগ্যে সফলতার কোনো অর্জন মেলেনি। ইরানের দৃঢ় ও নৈতিক অবস্থান তুলে ধরে প্রেনিডেন্ট হাসান রুহানি ২০১৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাতেও ইরানের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা উঠে এসেছে। শত্রুরা এখন ইরানের সাফল্যকে আড়াল করার কৌশল নিয়েছে। ইরানের বিরাট সফলতাকেও তারা অগত্যা তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছে, তাও একেবারেই নগণ্য করে। ইরানের অগ্রগতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে তারা তাই উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো গভীর আত্মবিশ্বাসী ইরানী জাতি শত্রুদের চাপের মোকাবেলায় নতি স্বীকার তো করবেই না বরং অতীতের চেয়ে আরো বেশি দৃঢ়তার সাথে তারা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।

অতীতের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদেশগুলোর চেয়েও ইরান এখন বহুগুণ শক্তিশালী।  ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী- ইরানী জাতি তাদের চেষ্টা প্রচেষ্টা, আশা আকাঙ্ক্ষা, সচেতনতা এবং দূরদর্শিতা দিয়ে যেভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সেই রণাঙ্গনে তারা বিজয়ী হবেই। মনে রাখতে হবে বিগত ৩৫ বছর ধরে ইরানী জাতি দৃঢ়তার সাথে শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে, কখনোই পিছপা হয়নি কিংবা বলদর্পী শক্তিগুলোর সামনে মাথানত করেনি বরং সবসময় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। এই বাস্তবতা সামনের দিকে এগিয়ে যাবার প্রেরণা জোগাবে এই প্রত্যাশা করছি।#

 

রেডিও তেহরান/এনএম/এআর/১  

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন