এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 05 ফেব্রুয়ারী 2014 15:12

ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি ও সামর্থ্য

ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই দেশটির ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। আমেরিকার নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সদ্যগঠিত ইসলামী সরকারের পতন ঘটাতে ইরাকের ততকালীন স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী সাদ্দাম হোসেন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু করে। তবে গোটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতার পরও ইরানি জাতির দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ ও ধৈর্যের কাছে পরাজিত হয় সাদ্দাম বাহিনী। ইরাকের চাপিয়ে দেয়া এ যুদ্ধে ইরানের অনেক ক্ষতি হলেও অর্জিত হয় ব্যাপক অভিজ্ঞতা। সাদ্দামকে দিয়ে ইরানের বিপ্লবী সরকারের পতন ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আমেরিকা নতুন কৌশল বেছে নেয়। ইরানের আশেপাশে সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করে। পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক সেনাও মোতায়েন করে আমেরিকা। পাশাপাশি ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে ওই সব দেশকে ক্ষেপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। সব মিলিয়ে ইরান সব দিক থেকে সামরিক হুমকির মুখে পড়ে।

 

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রথম থেকেই সব ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি শত্রুদের সর্বাত্মক হুমকি ইরানকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে। ইরানের আজকের প্রতিরক্ষা শক্তি বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষার সব অঙ্গনেই ইরান এখন অগ্রগামী। বিপ্লবোত্তর ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে নানা ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এছাড়া মহাকাশ বিজ্ঞানেও ইরানের অর্জন উল্লেখ করার মতো। মহাকাশ বিজ্ঞানে বিশ্বের যে দশটি দেশ তালিকার শীর্ষে রয়েছে, তার মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অন্যতম। দেশটি এরইমধ্যে মহাশূন্যে সাফল্যের সঙ্গে কৃত্রিম উপগ্রহ ‘ওমিদ’ ও ‘তুলু’ পাঠিয়েছে। এছাড়া উপগ্রহবাহী যান ‘সাফির’ ও ‘সিমোর্গ’-ও নির্মাণ করেছে ইরান।

 

ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পেও ইরান ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- শাহাব, সিজ্জিল, সাক্বেব, সাইয়দ, ফাতেহ, যিলযাল, মিসাক্ব, রা’দ, তুফান ও সাফার। এর মধ্যে স্বল্প, মধ্যম ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইরানের দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যে কোন ঘাঁটি ও অবস্থানে আঘাত হানতে সক্ষম এবং গোটা ইহুদিবাদী ইসরাইল ইরানি ক্ষেপনাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে। নৌশক্তিতেও ইরান চোখ ধাঁধানো  সাফল্য পেয়েছে। এরমধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ ও জাহাজ বিধ্বংসী নানা ক্ষেপণাস্ত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহারযোগ্য ইলেকট্রনিক ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রেও ইরান গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে।  ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আমেরিকার আরকিউ-১৭০ মডেলের ড্রোন অক্ষত অবস্থায় মাটিতে নামিয়ে আনে।

 

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়লে ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেআর ইউনিট দূর নিয়ন্ত্রণের সাহায্যে বিমানটিকে নিজেদের কর্তৃত্বে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। পরে আরকিউ-১৭০ মডেলের ওই ড্রোনটি ফেরত চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তেহরান সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। ‌এ ঘটনা ইরানের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কৌশলেরই একটা বড় প্রমাণ, যা বিশ্বের বড় বড় গবেষণা সংস্থাগুলোও স্বীকার করেছে। আমেরিকার বিখ্যাত থিংক ট্যাংক ‘স্ট্র্যাটিজিক এন্ড ইন্টারন্যানশাল স্টাডিজ’- ‘সিএসআইএস’-র বিশ্লেষকেরাও বলেছেন- ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার পরও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য ইরানের প্রস্তুতিও উল্লেখ করার মতো। তাদের মতে, আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের পক্ষ থেকে হামলার শিকার হলে ইরানের জবাব হবে কল্পনাতীত। কারণ ইরান ১৯৯০-র দশক থেকেই ইসরাইলের শক্তি ও সামর্থ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে নিজেকে প্রস্তুত করেছে।

 

ইরান এমন সব ড্রোন বা পাইলট বিহীন বিমান নির্মাণ করেছে,যা দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড়তে সক্ষম। এছাড়া ইরানের রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক রাডার সিগন্যাল প্রযুক্তি সম্বলিত ইরানের একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম 'মেরসাদ'। মধ্য আকাশ ও অতি নীচু দিয়ে উড়ে যাওয়া শত্রু-জঙ্গীবিমান সনাক্ত করে তাতে আঘাত হানতে এ ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া অন্যান্য বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রতিহত করার ক্ষমতা মেরসাদের রয়েছে। তবে ইরানের গোটা সামরিক শক্তিই হলো প্রতিরক্ষার জন্য। ইরান কখনোই কোন দেশের ওপর হামলা চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও চালাবে না। তবে দেশটি হামলার শিকার হলে কঠোর জবাব দিতে কুন্ঠাবোধ করবে না বলে বারবারই ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ইরান গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ বিরোধী। এ কারণে কখনো পরমাণু অস্ত্রসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে রেখেছে তেহরান।

 

ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষকরে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছে ইরান। দেশটির নেতৃবৃন্দও সব সময় মধ্যপ্রাচ্যকে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে নানা প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আঞ্চলিক সামরিক জোট গঠন। এই পরিকল্পনার আওতায় মধ্যপ্রাচ্যকে বিজাতীয় সেনামুক্ত করতে চায় ইরান। দেশটি এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে ইসলামের শত্রুদের প্রভাবমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। #

 

রেডিও তেহরান/এসএ/এআর/৫

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন