এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 06 ফেব্রুয়ারী 2014 19:14

নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের প্রতি ইসলামী ইরানের সমর্থন

ইরানি বিপ্লবের মূল ভিত্তি হচ্ছে- পবিত্র ইসলাম ধর্ম। এই বিপ্লব বিশ্বের রাজনৈতিক অভিধানে যোগ করেছে নতুন নতুন শব্দ ও সংজ্ঞা। এই বিপ্লব যেসব সংজ্ঞা ও শব্দাবলীকে নতুন প্রাণ দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- মুস্তাযআফিন ও মুস্তাকবারিন। মুস্তাযআফিন বলতে দুর্বল ও বঞ্চিতদেরকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাত যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। আর মুস্তাকবারিন শব্দ দিয়ে বিশ্বের আধিপত্যবাদী ও বলদর্পীদের বোঝানো হয়েছে। পরিবারের ছোট্ট গণ্ডি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল পর্যন্ত সর্বত্রই এই দু’টি দলের অস্তিত্ব রয়েছে।

 

আপাত দৃষ্টিতে শব্দ দু’টি অত্যন্ত সহজ-সরল হলেও সেগুলো প্রভাব ফেলেছে বিশ্বব্যাপী এবং এর ফলে সূচনা হয়েছে নতুন ধারার। ঐশী আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের আলোক প্রণিত ইরানের সংবিধানে ইসলামের রাজনৈতিক চিন্তা-আদর্শের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ভূমিকায় মুস্তাকবারিনের বিরুদ্ধে মুস্তাআযাফিনের বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরির কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদের তিন নম্বর ধারায় ইসলামী মানদণ্ড অনুযায়ী সব মুসলমানের প্রতি ভ্রাতৃপ্রতিম আচরণ এবং নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ১৫৪ নম্বর ধারাতেও গোটা মানব সমাজের কল্যাণকে ইসলামী সরকারের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনীও (রহ.) ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর সব সময় বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতিতে বঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের প্রতি সমর্থন দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বারবারই বলেছেন, ইসলামী আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ বিপ্লব সব ধরনের আধিপত্যকামিতার বিরোধী এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লব সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

 

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.) দুর্বল জাতিগুলোর প্রতি সাম্রাজ্যবাদীদের অন্যায় আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদীরা স্থানীয় রাজনৈতিক দালালদের মাধ্যমে জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং জালিম ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। আর এর ফলে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর একটি দল হলো- জালিম। আরেক দল হলো- মজলুম। ইমাম খোমেনী (রহ.)-র দৃষ্টিতে দুর্বল ও নির্যাতিত জাতিগুলো তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন ও সজাগ হলে এবং দাম্ভিক ও বলদর্পী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে নামলে বিজয় আসবে। তিনি আরো বলেছেন, ইসলামী বিপ্লব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এ আন্দোলন গোটা বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী ও বলদর্পিদের বিরুদ্ধে দুর্বল ও মজলুমদের আন্দোলন। যারা মানবতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের সবাই এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন করে।

 

ইমাম খোমেনী (রহ.)'র নীতির আলোকেই ইরানিরা সাম্রাজ্যবাদের সমর্থনপুষ্ট স্বৈরশাসক রেজা শাহের বিরুদ্ধে বিপ্লব সফল করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। আর এ বিপ্লবের মধ্যদিয়ে প্রকৃত ইসলামের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে যায়। বিপ্লব সফল হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে মজুলম ও নির্যাতিত জাতিগুলোর প্রতি সমর্থনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের মজুলম জাতিগুলোর পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।

 

কয়েক মাস আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির যে প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পাস হয়েছে, সেখানেও বিশ্বের সব জাতির অধিকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাবের মূল বক্তব্য হলো-জাতি, গায়ের রঙ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী-এসবের ভিত্তিতে অধিকার নির্ধারণ চলবে না। ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার পর থেকেই ইরান সব সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক- সব ইস্যুতেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেছে। এর ফলে আমেরিকাসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মুখোশ খুলে গেছে।

 

আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো যে অস্ত্র ও ক্ষমতার জোরে বিশ্বব্যাপী নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়, সে বিষয়টি ইরান বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণেই সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা যে করেই হোক, ইরানের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে ইরানের ন্যায়কামী ভূমিকার কারণে এসব ষড়যন্ত্র নস্যাত হয়ে গেছে। বিশ্বের মজলুম মানুষ এখন ইরানকেই তাদের মুক্তির দিশারী বলে মনে করে। ইরাক ও আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার আগ্রাসী ততপরতার কারণে ইমাম খোমেনী (রহ.)-র বক্তব্যের সত্যতা সবাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সব সময় বিশ্বে ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে এসেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বসংস্থায় গুটিকয়েক দেশের একাধিপত্যের বিরুদ্ধেও সব সময় সোচ্চার ছিল তেহরান।

 

ইরানের এ অবস্থানের কারণেই পাশ্চাত্য ও তাদের সহযোগী দেশগুলো ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। হামলার হুমকি থেকে শুরু করে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামবিরোধী বিশ্বশক্তি। কিন্তু ইরান বারবারই ঘোষণা করেছে, কোন অন্যায়কে কখনোই মেনে নেয়া হবে না। কারণ ইরানের ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোর একটি হলো- ন্যায় ও মজলুমের পক্ষে অবস্থান নেয়া। ইরান কখনোই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। #

                 

 

রেডিও তেহরান/এসএ/এআর/৬

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন