এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 10 ফেব্রুয়ারী 2014 11:33

হাজার বছরের সেরা বিপ্লব

ইরানের ইসলামী বিপ্লব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বিস্ময় এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য বিস্ফোরণ। এ বিপ্লবের সাফল্যের নানা দিক ও সাফল্য বা অগ্রযাত্রার কিছু কারণ এখানে তুলে ধরা হলো:

 

ইরানের ইসলামী বিপ্লব বদলে দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কথিত পরাশক্তির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে এ বিপ্লব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামকে তুলে ধরেছে সমসাময়িক যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও চ্যালেঞ্জিং শক্তি হিসেবে। বিশেষ করে মরহুম ইমাম খোমেনী ও তার সুযোগ্য উত্তরসূরী আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর নেতৃত্বে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি ইরানি জাতির প্রবল চপেটাঘাত বিশ্ব-সাম্রাজ্যবাদী শক্তি-বলয় তথা ইবলিসি শক্তিগুলোর একাধিপত্যকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। বিগত হাজার বছরের ইতিহাসে ইসলামী শক্তির এমন প্রবল উত্থান এবং ইসলামের গৌরবময় পতাকার এত উচ্চতর অবস্থান আর কখনও ঘটেনি। এ বিপ্লবের বিস্ময়কর সাফল্যগুলোর শীর্ষে রয়েছে আধুনিক যুগে একটি সফল ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যা গণভিত্তিক ইসলামী শাসন-ব্যবস্থাকে ক্রমেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলছে বলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আতঙ্কিত।

 

এ ছাড়াও ইরানের মহান ইসলামী বিপ্লবের আরো কিছু সাফল্যের মধ্যে রয়েছে: নাগরিক সুবিধা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা দান, ইসলামী ও খোদামুখী আধ্যাত্মিক পরিবেশের বিস্তার, বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের প্রকৃত শত্রুদের সনাক্ত করা, ইসলামের আলোকে সাংস্কৃতিক বিপ্লব তথা কুরআনের শিক্ষা বিস্তার, হিজাবের সংস্কৃতি চালু ও সৎকাজের আদেশ আর অসৎ কাজে প্রতিরোধ এবং সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রসহ শিল্প-মাধ্যমের ইসলামীকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অসমান্য সাফল্য, প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা, বিশ্বে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত একমেরু-কেন্দ্রীক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেয়া, স্বাধীনচেতা ও মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্কোন্নয়ন, ইরাক, ফিলিস্তিন, লেবানন ও আফগানিস্তানের শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান, আল্-কুদস ও ফিলিস্তিনকে মুসলিম বিশ্বের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জাতিসহ বিশ্ব মুসলিমকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টায় অসামান্য সাফল্য অর্জন, আশুরা, জিহাদ ও পবিত্র হজের মূল চেতনার বিস্তারসহ প্রকৃত এবং জরুরি ইসলামী চেতনাগুলোর বিস্তার।

 

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের এক বিরল সৌভাগ্য এটা যে এই আন্দোলনের নেতা ইমাম খোমেনী (র.) ছিলেন প্রজ্ঞাবান, সাহসী ও অকুতোভয়। তিনি ছিলেন সময়ের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনে সক্ষম। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা ও আকুতি ইসলামী জাগরণকে করেছে বেগবান। তাঁর নেতৃত্বের কারণেই ইরানি জাতি অবসাদ ও হতাশার মত শয়তানী শক্তিগুলোকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। ইমাম ছিলেন দ্বিধাহীন ও নিঃশঙ্ক আত্মত্যাগের এক প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

ইমাম খোমেনী (র.)'র ব্যাপক দূরদৃষ্টি ও ইস্পাত-কঠিন খোদায়ী সংকল্প তাঁকে দিয়েছে কিংবদন্তীতুল্য জনপ্রিয়তা। কেবল তাঁর নামই কিংবা তাঁর মুখনিঃসৃত প্রতিটি কথায় টগবগ করে উঠত বিপ্লবী জনতার রক্ত এবং হৃদয়। আর এই সব কিছুরই প্রধান কারণ হল ইমাম তাঁর কর্মততপরতা, কর্মকৌশল ও আচার-আচরণে বিশ্বনবী (সা.)'র প্রকৃত সুন্নাত অনুসরণ করেছেন এবং খাঁটি মুহাম্মাদি ইসলামের চেতনায় জাগিয়ে তুলেছিলেন ইরানের আলেম সমাজ ও জনগণকে।

 

মরহুম ইমাম খোমেনী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারা বা মতাদর্শের মোকাবেলায় ইরানের মুসলিম সমাজে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। ইমামের খোদাভীতি ও একনিষ্ঠতাও ছিল বিশ্বনবী (সা.)'র নুরানি আদর্শের প্রতিফলন। ফলে তাঁর নেতৃত্ব বা দিক-নির্দেশনার সুবাদে ঈমান ও আধ্যাত্মিকতার প্রেরণায় ইরানি জাতি এতটা উজ্জীবিত হয়েছিল যে তাদের সব স্তরে, বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে জিহাদ ও শাহাদতের সংস্কৃতির বিস্ময়কর প্রভাব বিশ্ববাসীকে অভিভূত করে।

 

এবারে আমরা এইসব সাফল্যের রহস্য বা কারণগুলো সম্পর্কে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষকদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরব।

 

প্রখ্যাত ব্রিটিশ সমাজ বিজ্ঞানী এন্টোনি গিডেনস বলেছেন,"কার্ল মার্কস, দুরখিইম ও ভেবেরের মত বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীরা তাদের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ক তত্ত্বে মোটামুটি যে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন, তা হচ্ছে, মানব জীবন থেকে ধর্ম আস্তে আস্তে বাদ পড়ে যাচ্ছে এবং স্যেকুলারিযম বা ধর্মহীনতা ধর্মের যায়গাটি দখল করে নিচ্ছে। কিন্তু আশির দশকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর আমরা ঐসব চিন্তাবিদের ভবিষ্যদ্বাণীর বিপরীত স্রোতধারা লক্ষ্য করেছি।"

 

ডক্টর মিশেল জনসন লন্ডন থেকে প্রকাশিত জি-ও পলিটিকাল স্ট্র্যাটেজি সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন- "ইরানের ইসলামী বিপ্লব ষোল শতকের পর পশ্চিমাদের ওপর মুসলমানদের প্রথম বিজয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এই বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো ইসলাম নির্ভরতা। বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এই ইসলামী আদর্শই কাজ করেছে।"

 

মার্কিন এম. আই. টি. বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাবেকিল ফিশার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবের প্রভাব সম্পর্কে বলেন, "ইমাম খোমেনী (রহ) এর কাছে বিপ্লব কেবল একটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিল না, বরং একটা আধ্যাত্মিক এবং ইসলামী বিপ্লব ছিল যার ফলে, সরকার, শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। মানুষের জীবনযাত্রায়ও ইসলামী বিপ্লব পরিবর্তন আনবে।"

 

রুশ রাজনীতিবিদ সের্গেই বাবুরিনে ইরানের বিপ্লবে ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেন-ইসলামী বিপ্লব কেবল ধর্মীয় কোনো বড়ো আন্দোলনই নয়, বরং মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্যে সামাজিক ন্যায় ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক পট পরিবর্তন।

 

কানাডার বিশিষ্ট মনীষী রবার্ট কোলেস্টোন ইসলামী বিপ্লবের প্রভাব সম্পর্কে বলেছেন-"আমি একজন পশ্চিমা অমুসলিম হিসেবে বলছি, এটা একটা অলৌকিক ঘটনা যে, একটা ঐশী ধর্ম এই আধুনিক বিশ্বে বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।"

 

বিশিষ্ট ফরাসি চিন্তাবিদ মিশেল ফুকো ইরানের ইসলামী বিপ্লব পরিদর্শনে এসেছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ইরানী জনগণের ঐক্য ও সংহতি দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। তিনি তাঁর 'নিষ্প্রাণ বিশ্বের প্রাণ ইসলামী বিপ্লব' নামক গ্রন্থে লিখেছেন-"বাস্তবতা হলো এই বিপ্লবী ঘটনার উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। কেননা এই বিপ্লবে পুরো একটি জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।"

তিনি আরো বলেছেন, "আধ্যাত্মিকতা ছিল ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মূলভিত্তি। এ বিপ্লব পুরনো চিন্তাধারার প্রতি ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছে। এ বিশেষত্ব ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে বিশ্বের অন্যান্য বিপ্লব থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছে এবং নিজেই একটি আদর্শে পরিণত হয়েছে।" তিনি এ বিপ্লবকে "প্রথম অত্যাধুনিক বিপ্লব" ও "গণজাগরণের আধুনিকতম রূপ" বলেও মন্তব্য করেছেন।

 

রুশ লেখক নিকোলা মিশিন ইমাম খোমেনী (রহ.) সম্পর্কে লেখা তাঁর বইতে লিখেছেন-"ইরানের ইসলামী বিপ্লব মানুষের অন্তর কেড়ে নিয়েছে। ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ইসলামী বিপ্লবের মূল্য ছিল এই যে, তিনি মার্কিন বিশ্বসাম্রাজ্যবাদকে উপেক্ষা করে বলেছেন-আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ রয়েছে, সেটা হলো কুরআনের মূল্যবোধ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে পশ্চিমা গণতন্ত্রের চেয়ে ইসলামী গণতন্ত্র অনেক বেশি পরিপূর্ণ। বিশ্ববাসীকে তিনি বুঝিয়েছেন, মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হলো আলকুরআন। এই কুরআন যার সাথে থাকে সে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।"

 

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহ.) একাধারে এমন একটি ঐতিহ্যের উত্তরসূরি ও এই ধারার সফল পরিপূর্ণতাদানকারী যে ধারার আলোকে ইরানের আলেম, জনগণ এবং এমনকি বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়েরও সবাইই মুজতাহিদ ফকিহদের আনুগত্য করতেন। ইরানের ঐতিহ্যবাহী আলেমগণ সুপ্রাচীন কাল থেকেই জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতেন ও জনগণকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিতেন।

 

ইমাম খোমেনী (র.) যোগ্যতা ও অবদানের দিক থেকে সমসাময়িক যুগের সব মুজতাহিদকে ছাড়িয়ে গেছেন, যদিও অতীতের মুজতাহিদদের সংগ্রাম বা আন্দোলনগুলো চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ইমামের নেতৃত্বে। এ প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর হামিদ আলগার বলেছেন: "আয়াতুল্লাহ খোমেনী (র.)'র কাছে যাওয়ার সুযোগ যাদের হয়েছে তারা জানেন যে তিনি মানবাদর্শের এক মূর্ত প্রতীক। তিনি কেবল নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক যোগ্যতার এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানে এরূপ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি প্রচলিত মারজা-ই-তাকলিদের তথা অনুসরণযোগ্য মারজা'র সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। একজন মুসলমানকে দেখতে হবে ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বের ধরণের প্রতি যার মাধ্যমে তিনি বিপ্লবে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গতি দান করেছেন। এটা এখন উল্লেখযোগ্য এক দৃষ্টান্ত যে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিপ্লব পরিচালনায় তিনি যে অবদান রেখেছেন তা সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে অতুলনীয় এবং সে ভূমিকা পণ্ডিত, দার্শনিক ও আধ্যাত্মবাদী হিসেবে তার পরিচিতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আধুনিক মুসলিম মানসিকতাসম্পন্ন লোকেরা মনে করেন, দর্শন ও আধ্যাত্মবাদ বাস্তবতা-বহির্ভূত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকায় অপ্রযোজ্য এবং তা এমনি এক অবাস্তব জিনিস যার সাথে মুসলিম ও ইসলামী বিশ্বের বিরাজমান সমস্যার কোনো সম্পর্ক নেই। আয়াতুল্লাহ খোমেনী এ ধারণার বিরুদ্ধে এক জীবন্ত উদাহরণ। তাঁর কাজ এ দুটি ধারণার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছে। তিনি যে বিপ্লব করেছেন তা শুধু যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যাপার ছিল তা নয়, আধ্যাত্মবাদের এক অন্তর্নিহিত শক্তির মাধ্যমেও তা নিখুঁত-নির্ভুলভাবে পরিচালিত হয়েছে।"

 

হামিদ আলগার আরো লিখেছেন: "১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দেশে ফিরে আসলেন। কিন্তু তিনি সাথে করে কোনো সম্পদ নিয়ে এলেন না। কোনো রাজনৈতিক দলও তিনি গঠন করেননি। কোনো গেরিলা যুদ্ধও পরিচালনা করেননি। কোনো বিদেশী শক্তির সাহায্যও তিনি নিলেন না। অথচ এর মধ্যেই তিনি ইসলামী আন্দোলনের তর্কাতীত নেতৃত্বে সমাসীন হলেন।"

 

ইমাম খোমেনী (র.) ইসলামের একজন যথার্থ প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতেন। তিনি কোনো ক্ষুদ্র গ্রুপের এমনকি আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবেও কথা বলতেন না। বরং ইসলামের একজন আলেম হিসেবে ও ইরানের একজন নাগরিক হিসেবে যাবতীয় সমস্যার ওপর কথা বলা দায়িত্ব মনে করতেন। তাঁর সব ঘোষণার মধ্যেই দেখা যেত এক স্থায়ী আবেদন। তিনি বলতেন, ইসলামে আলেমদের বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে। তাই তাঁরা শুধু পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত কিতাবপত্র পড়বেন এবং পড়াবেন এ পর্যন্তই তাঁদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বনবী (সা.)'র হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব আরো অনেক ব্যাপক ও মহান। তাঁরা নবী (সা.)'র উত্তরাধিকারী। তাই নিছক মাদ্রাসার কোণায় বসে পাঠ্যসূচির বইপুস্তক নিজে পড়া ও অন্যদের পড়ানোর মাধ্যমে নবীর উত্তরাধিকারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। লোকজনদের পথ দেখানোর ব্যাপারে তাঁদের দায়িত্বের পরিধি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। ইমাম খোমেনী শুধু আলেম সমাজেরই প্রতিনিধিত্বমূলক কথা বলতেন না, বরং সমগ্র মুসলিম জাতির উদ্দেশ্যেই তাঁর বক্তব্য ছিল উচ্চকিত।

 

মোটকথা নবী-রাসূলগণের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী মহান মুজতাহিদ হযরত ইমাম খোমেনী (র.)'র নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের সফলতার মৌলিক কারণগুলো হল-ফকিহ মুজতাহিদদের গতিশীল ইজতিহাদ, ইসলামের আদর্শের অবিকৃত সাংগঠনিক রূপ যা বহুমাত্রিক যোগ্যতাসম্পন্ন আলেমদের নেতৃত্বে সংগঠিত এবং সর্বোপরি কারবালায় প্রকৃত ইসলামের জন্য প্রাণ উতসর্গকারী শহীদদের নেতা হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)'র শাহাদতের প্রতি ইরানি জনগণের শোক-ভালবাসাকে শক্তিতে পরিণত করে বিপ্লবে প্রাণ সঞ্চার করা। এ তিনটি মৌলিক কারণকে সমন্বিত করে ইমাম খোমেনী (র.) ইসলামী বিপ্লবকে যৌক্তিক পরিণতি দান করেছেন। আর এটা একদিকে যেমন তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য, অন্যদিকে তা ইসলামী পুর্জাগরণের জন্যও সবচেয়ে বড় যুগান্তকারী ঘটনা।#

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/এআর/১০

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন