এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 29 এপ্রিল 2016 20:10

‘প্রবৃদ্ধির সুফল নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না’

‘প্রবৃদ্ধির সুফল নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না’

‘পাঠক! আমাদের প্রাত্যহিক অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

প্রথম আলো অনলাইন: জঙ্গি দমনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সফল বিএনপি’

বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: 'গুম হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের আর পাওয়া যাবে না'- আব্দুল্লাহ আল নোমান

ইত্তেফাক অনলাইন: 'তেলের দাম কমেছে, পরিবহনের ভাড়াও কমবে'। দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম-লক্ষ্মীপুরে ২ জনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

যুগান্তর: ২৩ দিন ধরে টানা তাপপ্রবাহ বইছে তীব্র গরমে নাগরিক জীবনে নাভিশ্বাস

 

ভারতের খবর:

 

আনন্দবাজার: আরও কড়া কমিশন, বন্দিদশার মধ্যেই আর এক দফা নজরবন্দি মদন

বর্তমান: কাল জীবনে প্রথম কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জোটের বৃত্ত সম্পূর্ণ করবেন সিপিএমের বুদ্ধদেব

আজকাল অনলাইন: মুম্বইয়ের বিতর্কিত আদর্শ হাউজিং কমপ্লেক্স ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট।

 

তো, শ্রেতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের -সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছি।

 

হাসিনাকে বিব্রত করতেই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে: নাসিম, প্রথম আলোর শিরোনাম এটি।

 

খবরে বলা হয়েছে, গুপ্তহত্যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারকে বিব্রত ও বিপর্যস্ত করার জন্যই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

 

আজ শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪-দলীয় জোটের বৈঠক পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন।

 

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীল হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল চক্রান্ত শুরু করেছে।

 

আর ইত্তেফাকের খবর-তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'সরকার সারা দেশে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দেশে কিছু ছিটেফোটা গুপ্তহত্যা ও অতর্কিতে হামলার ঘটনা চলছে। সরকার এরই মধ্যে ব্লগার, লেখক ও প্রকাশক হত্যা এবং কলাবাগানের হত্যা, রাজশাহীর হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। বেশির ভাগ মামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সুতরাং যারা বলছেন, সরকার জঙ্গি এবং গুপ্তহত্যাকারীদের ব্যাপারে উদাসীন, তা সত্যি নয়। জঙ্গিদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আড়াল করতে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে।'

 

এদিকে প্রথম আলোর একটি খবরের শিরোনাম এরকম যে,‘জঙ্গি দমনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সফল বিএনপি’

খবরটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জঙ্গি দমনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং সফল সরকার বিএনপি। তাই দলটি মানবতা, সভ্যতা বিরোধী যেকোনো ধ্বংসাত্মক জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে দমন করতে অতীতের অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে।

 

আজ শুক্রবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি দলমত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐকমত্যের মানুষ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র বিরোধী প্রাণবিনাশী জঙ্গি শক্তিকে দমনে সকলকে সর্বশক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

রিজভী আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, বিএনপিকে দোষারোপ না করে হাসানুল হক ইনুকে কাছে জানতে চান জঙ্গিরা কোথায় আছে। তিনি বলেন,দেশের নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

 

আমরা দায় নেব না’—বলে এই দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। বিএনপির নেতা-কর্মীদের এসব জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রকৃত জঙ্গিদের আড়াল করার পরিবর্তে জঙ্গিদের খুঁজে বের করুন।

 

…….

 

‘নেপথ্যে ওরা কারা’ এ শিরোনামের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে লেখা হয়েছে, মতপার্থক্য বা মতাদর্শের দ্বন্দ্বের কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছরে খুন হয়েছেন ৩৪ জন। হামলা হয়েছে ৩৯ বার। কিন্তু এসব অপরাধের বেশির ভাগেরই কোনো কূলকিনারা হচ্ছে না। নির্দেশদাতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঠের খুনিরাও রহস্যজনকভাবে হয়ে যাচ্ছেন হাওয়া। ফলে অজানা থেকে যাচ্ছে এসব খুনের নেপথ্যে আসলে কারা। হামলা ও কুপিয়ে খুনের ঘটনাগুলোর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের নামে দ্বায় স্বীকারের টুইটার বার্তার কথা দাবি করা হলেও এগুলোর কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু এসব প্রকাশ্য হামলার নির্দেশদাতা জঙ্গিগোষ্ঠী বা গ্রুপের নেপথ্যে থাকা শীর্ষস্থানীয় কাউকে গ্রেফতার করে এখনো সামনে আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।

 

......

 

জোড়া খুনের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে জন কেরির ফোন- শীর্ষক খবরটি ইত্তেফাকসহ প্রায় জাতীয় দৈনিকে এসেছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নানকে খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ ও খুনিদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। প্রায় ১৬ মিনিটের কথোপকথনে জন কেরি কুশল বিনিময়ের পর জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

তিনি হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

 

প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করছে। কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি, অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।

 

..........

 

৬.৮ ভাগ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এসকাপের-প্রবৃদ্ধির সুফল নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না- এ শিরোনামের খবরে দৈনিক যুগান্তর লিখেছে, বাংলাদেশের অথর্নীতিকে 'শক্তসামর্থ ও প্রাণবন্ত' আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে গত কয়েক বছরে ৬ ভাগেরও বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ৬.৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। তবে প্রবৃদ্ধির এই সুফল নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এ জন্য নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়ানোর পাশপাশি তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

....

 

বাংলাদেশের পর এবার ভারতের দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ

 

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন নিয়ে দৈনিক বর্তমানের খবর- একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বিশাল মিছিল। অপরদিকে তাঁরই দুর্গে ঢুকে বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় হুংকার দিলেন। আর এসব মিলিয়ে ৩০ এপ্রিলের ভোটের শেষ প্রচারে সরগরম ছিল দক্ষিণ কলকাতা। কলকাতার বিভিন্ন কেন্দ্রে শাসক ও বিরোধী দলের প্রার্থীরা প্রচারে নেমে পড়েন। দৈনিকটির অন্য একটি খবর- ষষ্ঠ দফার ভোটের আগে বুধবার পার্ক সার্কাস ময়দানে চূড়ান্ত জোটবার্তা দিয়ে এক মঞ্চে হাজির ছিলেন সিপিএমের শীর্ষনেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। তার পরের দিন, বৃহস্পতিবার সেই বুদ্ধদেববাবুর ‘সততা’কে স্বীকার করে নিয়েই কংগ্রেস সম্পর্কে সিপিএমের ‘দ্বিচারিতা’র প্রশ্নে জোটকে বিঁধলেন বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং।

 

তো পাঠক! এই ছিল আজকের কথাবার্তার আসরে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন।#

 

গাজী আবদুর রশীদ/২৯

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন