এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 03 মে 2016 20:40

ঘরে ঘরে নিরাপত্তা দেয়া কঠিন: পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক

ঘরে ঘরে নিরাপত্তা দেয়া কঠিন: পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক
পাঠক! আমাদের প্রাত্যহিক অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ৩ মে মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম আলো অনলাইন: একনেকে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্প অনুমোদন

বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: টার্গেট করে সিক্রেট কিলিং নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা

ইত্তেফাক অনলাইন: মানুষ কথা বলতে ভয় পাচ্ছে: সুলতানা কামাল

ভারতের খবর:

আনন্দবাজার: মমতার হুমকির জেরে জেদ বাড়ছে উর্দির

আজকাল: গোবিন্দ ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচন জিততে দাউদের সাহায্য নিয়েছিলেন, দাবি উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল রাম নায়েকের।

তো, শ্রেতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের -সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছি।

‘বিচারহীনতার কারণেই সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে’

এ শিরোনামটি দৈনিক মানবজমিনের।খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে অপরাধীদের বিচারে ‘দায়মুক্তি’ বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত। তিনি বলেছেন, বিচারহীনতা ও দায়মুক্তির কারণে সংখ্যালঘু নির্যাতনে সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত হচ্ছে। অপরাধীদের শাস্তি যেন নিশ্চিত হয়- এজন্য রাষ্ট্রকে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদ আয়েজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। যশোরের চৌঁগাছা ও অভয়নগরের মালোপাড়া, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়াসহ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক সহিংস পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঐক্য পরিষদ।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে ইউপি নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে ঐক্য পরিষদের হিসেব অনুযায়ী অন্তত ৫৬৫ টি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাসগুপ্ত বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে সাম্প্রদায়িকতা যেমন আছে, তেমনি রাজনৈতিক কারণও আছে। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াতের সময়েও আমরা শান্তি, স্বস্থি পাইনি, এখনও আমরা শান্তি স্বস্থি পাচ্ছিনা। সংখ্যালঘু নির্যাতনকারিদের ক্ষেত্রে এখনো দায়মুক্তি রয়ে গেছে। একারণে সন্ত্রাসীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবছি ২০১৯ সালের নির্বাচনের কথা। সংখ্যালঘুদের অবস্থা তখন কেমন হবে এ নিয়ে আমরা এখনই শঙ্কিত। সংখ্যালঘুদের যেন দেশ ত্যাগ করতে না হয়।

এদিকে ,আজ চুয়াডাঙ্গায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাড়িতে বোমা হামলা হয়েছে বলেও দৈনিকটির একটি খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

.....

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক দাবি করেছেন, জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ রোল মডেল। আজ মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম আলোর এ খবরটিতে আইজিপি আরো বলেন, ২০১৩ সাল থেকে মোট ৩৭টি জঙ্গি হামলা হয়েছে। এর ৩৪টির কারণ পুলিশ উদ্‌ঘাটন করেছে। ছয়টি ঘটনায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। নির্ভুল অভিযোগপত্র দিতে চায় বলে পুলিশ সময় নিচ্ছে। পুলিশের দেয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি হামলার ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ আগাম তথ্য পাচ্ছে না কেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশপ্রধান বলেন, পুলিশ আগাম তথ্য পেয়েছে বলেই ঘটনা কম ঘটেছে। না হলে ঘটনা অন্য রকম হতে পারত।

পুলিশকে যারা ব্যর্থ বলে, পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলে, তাদের জবাব দেয়ার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। অনেকেই ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এ ব্যাপারে আইজিপি বলেন, ঘরে ঘরে নিরাপত্তা দেয়া কঠিন। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো সম্পর্কে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘তারা হাইফাই কেউ না। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ নেই।’

.......

দৈনিক ইত্তেফাকের খবর-মানবাধিকার নেত্রী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘মানুষ কথা বলতে ভয় পাচ্ছে, সেটা আমরা অস্বীকার করতে পারব না। মঙ্গলবার রাজধানীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সুলতানা কামাল বলেন, কথা বলতে বা মতপ্রকাশ করতে না পারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। সবকিছুই যে সরকার করে দেবে, তা নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। গণতান্ত্রিক চর্চার যে ঘাটতি রয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবাদপত্র বন্ধের সুপারিশ স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়’-মানবজমিনের এ শিরোনামে লেখা হয়েছে,

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন প্রেস কাউন্সিলকে ৩০ দিনের জন্য সংবাদপত্র বন্ধের এখতিয়ার দেয়ার যে সুপারিশ করেছেন তার কড়া সমালোচনা করেছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য সাংঘাতিক অন্তরায় হবে বলে কেউ কেউ মনে করেন। সম্প্রতি প্রেস কাউন্সিল তাদের আইন সংশোধনের একটি খসড়া তৈরি করে। দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আইন কমিশনের এই পজিশনকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য বিরাট অন্তরায় মনে করেন। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য এটা সাংঘাতিক অন্তরায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার ৭ বছর লুট করেছে। কিন্তু মামলা হয় আমাদের নামে। আমাকে যদি কারাগারে নিয়ে যায় তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। আমি কারাগারের ভয় করি না। দৈনিক মানবজমিনের এ খবরটিতে খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। সত্যের জয় হবেই, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবেই, গণতন্ত্র ফিরে আসবেই। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবই, প্রতিবাদ করবই। দেশবাসীকে এক হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

সচিবের কঠোর বার্তা: দুর্নীতি করতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছেড়ে চলে যান

প্রথম আলোর এ খবরটিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি করে অর্থ উপার্জন করতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এখানে সামান্যতম অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, প্রকল্প অফিস, দপ্তর, সংস্থাসহ মাঠ পর্যায়ের অফিসে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ ঘোষণা দেন।

...........

এদিকে, প্রাইভেট টিউশন, কোচিং এবং নোটবই, গাইড বই নিষিদ্ধ করে শিক্ষা আইন করতে যাচ্ছে সরকার। সহায়ক বই প্রকাশেও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদন লাগবে। কেউ এই আইন না মানলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায়।

ওই খসড়ার ওপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রায় ৩০০ মতামত পাওয়ার পর এ রকম কঠোর ব্যবস্থা রেখে খসড়াটি চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খবরটি দৈনিক প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত দুর্নীতি এবং শিক্ষায় নোটবই, প্রাইভেট টিউশনসহ যেসব উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করতে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

.......

বাংলাদেশের পর এবার ভারতের বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ

ফের গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা- শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে, ভোট উৎসবের শেষ লগ্নে এসে গণতন্ত্র এই মুহূর্তে চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে। ভিন্ন স্বরের অস্তিত্ব ও তার লালনেই যে গণতন্ত্রের সুদূরপ্রসারী বিস্তার, সেই স্বরের প্রতি অসহিষ্ণুতার নিদর্শনে কোনও ব্যক্তি বা দলের পরাজয়-আঘাত নেই, আছে গণতন্ত্রের সামগ্রিক ক্ষতির বীজ।

দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম-উত্তরাখণ্ডের দাবানলের ফলে আরও দ্রুত গতিতে গলে যেতে পারে হিমালয়ের হিমবাহ। বিশেষজ্ঞদের এমনটাই আশঙ্কা। দাবানলের ধোঁয়া ও ছাই থেকে বের হওয়া কার্বন জমা হচ্ছে হিমবাহের উপর। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর ফলে গলে যেতে পারে হিমবাহ।

তো পাঠক! এই ছিল আমাদের কথাবার্তার আসরে সর্বশেষ খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং সবাই ভালো থাকবেন।

গাজী আবদুর রশীদ/৩

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন