|
||||
| ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা |
মার্কিন সরকারের নেতৃত্বে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশ ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচী বন্ধের জন্য নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির নীতি গ্রহণ করেছে। আর এরই অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ ইরানের তেল শিল্প ও অর্থ ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের অভিযোগ তেহরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচীর নামে গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ কেবলই অজুহাত ও প্রচারণার হাতিয়ার মাত্র। আসলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অঙ্গনে স্বাধীনচেতা ও আধিপত্যবাদ বিরোধী নীতি পরিবর্তনে তেহরানকে বাধ্য করার জন্যই পাশ্চাত্য এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সে যাই হোক, ইইউ ইরানের ওপর তেল-নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। যেসব দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি করে সেসব দেশকে জ্বালানী তেলের বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের তারিখ ছয় মাস পেছানো হয়েছে। গ্রীস, ইতালি ও স্পেন জ্বালানী তেলের জন্য ব্যাপক মাত্রায় ইরানের ওপর নির্ভরশীল। যেমন, গ্রীস তার চাহিদার শতকরা ত্রিশ শতাংশ তেল ইরান থেকে কিনে থাকে।যে কোনো দেশের জ্বালানী তেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সালফার বা গন্ধক থাকে। আর তাই তেল শোধনাগারগুলোও এরই ভিত্তিতে তৈরি করে থাকে আমদানিকারক দেশগুলো। তাই একটি দেশের তেল আমদানি বন্ধ করে অন্য দেশের তেলকে তার স্থলাভিষিক্ত করা সহজ কাজ নয়। এ অবস্থায় যেসব দেশ ইরানের তেল কেনা বাদ দিয়ে অন্য দেশের তেল কিনতে চায় তাদেরকে ইরানের তেলের উপাদানগুলোর কাছাকাছি বা সমমানের তেল উৎপাদক কোনো দেশের দ্বারস্থ হতে হবে। এই বিশেষ সমস্যা ছাড়াও ইউরোপের অনেক কোম্পানি ইরানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করায় ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের তেল এবং দেশটির কেন্দ্রেীয় ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ছয় মাস পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। অন্য যে কারণে ইউরোপ খুব সতর্কতার সঙ্গে ও ধীরে চল নীতির ভিত্তিতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে চায় তাহল, বিশ্ব বাজারে তেলের দর বৃদ্ধির আশঙ্কা। জ্বালানী তেল একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি পণ্য হওয়ায় চাহিদা ও যোগানের সূত্র ছাড়াও রাজনৈতিক নানা সিদ্ধান্তও এর মূল্য ওঠা-নামার ওপর প্রভাব ফেলে। ইসলামী ইরান তেল উৎপাদক দেশগুলোর বৃহত্তম জোট ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী এবং তেল উৎপাদনে বিশ্বে ইরানের অবস্থান চতুর্থ। তাই ইরানের তেল-বর্জন বা বয়কট সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাজারে তেলের দরের ওপর সরাসরি বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। তাই ইইউ ছয় মাস পর ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কথা বলে একদিকে আমদানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। একইসাথে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য ফলাফল যথাথাভাবে যাচাই করে দেখারও সুযোগ নিয়েছে ইইউ। অর্থনৈতিক সংকট কবলিত ইউরোপের এই সতর্ক পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের ব্যাপকতাই তুলে ধরছে। জার্মান দৈনিক জুড ডয়িচে, ইরানের ওপর ইউরোপের তেল নিষেধাজ্ঞার পরিণাম সম্পর্কে লিখেছে, অর্থনৈতিক সংকট কবলিত ইউরোপ, বিশেষ করে গ্রিস এ নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রেডিও তেহরান/এএইচ/এআর/৮ |
| সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, 08 ফেব্রুয়ারী 2012 16:55 ) |



মার্কিন সরকারের নেতৃত্বে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশ ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচী বন্ধের জন্য নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির নীতি গ্রহণ করেছে। আর এরই অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ ইরানের তেল শিল্প ও অর্থ ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের অভিযোগ তেহরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচীর নামে গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ কেবলই অজুহাত ও প্রচারণার হাতিয়ার মাত্র। আসলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অঙ্গনে স্বাধীনচেতা ও আধিপত্যবাদ বিরোধী নীতি পরিবর্তনে তেহরানকে বাধ্য করার জন্যই পাশ্চাত্য এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সে যাই হোক, ইইউ ইরানের ওপর তেল-নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। যেসব দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি করে সেসব দেশকে জ্বালানী তেলের বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের তারিখ ছয় মাস পেছানো হয়েছে। গ্রীস, ইতালি ও স্পেন জ্বালানী তেলের জন্য ব্যাপক মাত্রায় ইরানের ওপর নির্ভরশীল। যেমন, গ্রীস তার চাহিদার শতকরা ত্রিশ শতাংশ তেল ইরান থেকে কিনে থাকে।



Comments
RSS feed for comments to this post.