|
||||
| ইসলামী গণজাগরণ ব্যাপক পরিবর্তনের উৎস |
বিশ্বের ৭৩টি দেশের বিপ্লবী যুব নেতা ও কর্মীদের উপস্থিতিতে সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যুব সমাজ ও ইসলামী জাগরণ' শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। গত ত্রিশে জানুয়ারি তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের অনেকেই এই মহান নেতার সাক্ষাৎ পেয়ে আনন্দাশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। অনেকে কবিতা আবৃত্তি করে সংগ্রামী এই নেতার প্রতি তাদের ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তাদের বলেছেন, "যখন কোনো দেশের যুব সমাজ জেগে ওঠে তখন দেশটির আপামর জনগণও জেগে উঠবে বলে আশা করা যায়।" তিনি আরো বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইসলামী গণজাগরণ ব্যাপক পরিবর্তনের উৎস।" এ সম্পর্কে তাঁর আরও কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো।মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ঘটে গেছে ব্যাপক পরিবর্তন। পশ্চিমা শক্তিগুলোর সেবাদাস স্বৈরশাসকদের মহাদুর্দিন আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে পবিত্র কোরআনের এই অমোঘ বাণী, " বলুন! সত্য এসে গেছে ও মিথ্যা বিলুপ্ত, আর মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক জাগরণ সম্পর্কে বলেছেন, "বর্তমান সময়টি মানব ইতিহাসের এক বড় ক্রান্তিলগ্ন বা নতুন অধ্যায়ের সূচনা। মহান আল্লাহর প্রতি মনোযোগ বা গুরুত্ব দেয়া ও তার অক্ষয় শক্তি এবং প্রত্যাদেশ বা ওহির ওপর নির্ভর করা-প্রভৃতি এ যুগের বৈশিষ্ট্য । বর্তমানে মুসলিম জাতিগুলোকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে যে বিষয় তা হলো- ইসলাম। ঐশী ধর্ম তথা ইসলাম মানুষের সৌভাগ্য নিশ্চিত করতে পারে বলে মহান আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।" বিশ্বের ৭৩টি দেশের বিপ্লবী যুব নেতা ও কর্মীরা তেহরানে "যুব সমাজ ও ইসলামী জাগরণ" শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপস্থিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিপ্লবকে আরো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার খুব ভাল সুযোগ পেয়েছেন। এ সম্মেলনের সুবাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনেকেই নিজেকে ধন্য মনে করেছেন। লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রখ্যাত কমান্ডার শহীদ ইমাদ মুগনিয়ার কন্যা এ অনুষ্ঠানে বলেছেন, "আমি ফাতেমা, আপনার কন্যা ও শহীদ ইমাদ মুগনিয়ার সন্তান।" তিনি আরো বলেছেন, " মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ই বর্তমান ইসলামী জাগরণের ও মধ্যপ্রাচ্যের বিপ্লবগুলোর উৎস।" বিশ্বের মুসলিম যুব নেতৃবৃন্দের সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, "বিপ্লবী যুব সমাজ মুসলিম উম্মাহ'র জন্য বড় ধরনের সুসংবাদের বার্তা বহন করছে। আজ সারা বিশ্বের মুসলিম যুব সমাজ জেগে উঠেছে। বর্তমান বিশ্বে যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য হাজারও ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে , কিন্তু তা সত্ত্বেও সভ্রান্ত ও উচ্চ মনোবলের অধিকারী মুসলিম যুব সমাজ এসব ফাঁদ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পেরেছে। আপনারা দেখছেন তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন ও বাহরাইনে এবং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে কি ঘটনা ঘটছে।" মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসক ও তাদের পশ্চিমা সহযোগীরা কখনও এটা কল্পনাও করতে পারেনি যে বিপ্লবী যুবকরা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলবে। পশ্চিমা উপনিবেশবাদীরা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব করার পর এখন তাদের জুলুমের নীতির তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন- বৃটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন সরকার ইসলামী দেশগুলোকে দখল করে ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণকেন্দ্রে ইহুদিবাদী ইসরাইল নামক ক্যান্সারকে বসিয়ে এবং এ দখলদার শক্তিকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে। এভাবে সাম্রাজ্যবাদী এ সরকারগুলো মুসলমানদের অপমান করেছে। তিনি সাম্রাজ্যবাদীদের কর্তৃত্বের কুফল সম্পর্কে বলেছেন, "পশ্চিমা সংস্কৃতি মুসলমানদের মধ্যে এ ধ্বংসাত্মক ভুল ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে কিছু করতে সক্ষম নয়, কারণ, মুসলমানরা নাকি দুর্বল। মুসলিম দেশগুলো এ ধারণাকে সত্য মনে করে দশকের পর দশক ধরে পিছিয়ে থেকেছে। তাদের ঢুকিয়ে দেয়া আরেকটি ধ্বংসাত্মক ভুল ধারণা হল, পাশ্চাত্য অপরাজেয় ও অশেষ ক্ষমতাধর। পশ্চিমারা যেহেতু পিছু হটবে না, তাই আমাদেরকেই পাশ্চাত্যের মোকাবেলায় নিরব থাকতে হবে।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিপ্লবী যুব নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "সাম্রাজ্যবাদীরা জনগণের বিপ্লবগুলোকে যাতে ছিনতাই না করতে পারে ও বিপ্লবগুলোকে বিচ্যুত করতে না পারে সে বিষয়ে সদা-সতর্ক থাকুন। এ ব্যাপারে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে, মানুষ বা জনগণ যদি আল্লাহর জন্য ও জালেমদের নির্মূলের জন্য কোনো আন্দোলন বা প্রচেষ্টা শুরু করে তখন মহান আল্লাহ বিশেষ সাহায্য ও পথ-নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের বিজয়ী করেন। তিনি উত্তর-আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুব সমাজসহ এ অঞ্চলের বিপ্লবী জনগণের বিজয়কে খোদায়ী সাহায্যপুষ্ট বলে মনে করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে মুসলিম বিশ্বে ইসলামী জাগরণ জোরদার হয়েছে এবং এ ইসলামী জাগরণে সবগুলো মুসলিম মাজহাবের অনুসারী শরীক হয়েছেন। তিনি ইসলামকে ও কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে টার্গেট করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "শত্রুরা যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে সক্ষম না হয় আমাদের সে জন্য সচেষ্ট হতে হবে। আমরা সবাই সাম্রাজ্যবাদের শত্রু, আমরা সবাই পাশ্চাত্যের নোংরা কর্তৃত্বের বিরোধী এবং মনে-প্রাণে ইসরাইল নামক বিষফোঁড়া বা ক্যান্সারের বিরোধী।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে বর্তমান যুগটি ইসলামী জাগরণের অনন্য যুগ এবং মুসলমানরা আবার ইসলামের সোনালীয় যুগের মত বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার সব ক্ষেত্রে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। তার মতে, ইসলামই মানবতাকে ন্যায় বিচার, আধ্যাত্মিকতা স্বাধীনতা ও বিবেকসম্মত-জ্ঞান বা যুক্তির কর্তৃত্ব উপহার দিতে সক্ষম। #
রেডিও তেহরান/এএইচ/এআর/৮ |



বিশ্বের ৭৩টি দেশের বিপ্লবী যুব নেতা ও কর্মীদের উপস্থিতিতে সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যুব সমাজ ও ইসলামী জাগরণ' শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। গত ত্রিশে জানুয়ারি তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের অনেকেই এই মহান নেতার সাক্ষাৎ পেয়ে আনন্দাশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। অনেকে কবিতা আবৃত্তি করে সংগ্রামী এই নেতার প্রতি তাদের ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তাদের বলেছেন, "যখন কোনো দেশের যুব সমাজ জেগে ওঠে তখন দেশটির আপামর জনগণও জেগে উঠবে বলে আশা করা যায়।" তিনি আরো বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইসলামী গণজাগরণ ব্যাপক পরিবর্তনের উৎস।" এ সম্পর্কে তাঁর আরও কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো।



Comments
RSS feed for comments to this post.