বৃহস্পতিবার- 17 মে 2012 / 07:10
বুধবার, 08 ফেব্রুয়ারী 2012 19:19    পিডিএফ প্রিন্ট ইমেইল
ইসলামী গণজাগরণ ব্যাপক পরিবর্তনের উৎস
বিশ্বের ৭৩টি দেশের বিপ্লবী যুব নেতা ও কর্মীদের উপস্থিতিতে সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যুব সমাজ ও ইসলামী জাগরণ' শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। গত ত্রিশে জানুয়ারি তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের অনেকেই এই মহান নেতার সাক্ষাৎ পেয়ে আনন্দাশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। অনেকে কবিতা আবৃত্তি করে সংগ্রামী এই নেতার প্রতি তাদের ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তাদের বলেছেন, "যখন কোনো দেশের যুব সমাজ জেগে ওঠে তখন দেশটির আপামর জনগণও জেগে উঠবে বলে আশা করা যায়।" তিনি আরো বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইসলামী গণজাগরণ ব্যাপক পরিবর্তনের উৎস।" এ সম্পর্কে তাঁর আরও কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ঘটে গেছে ব্যাপক পরিবর্তন। পশ্চিমা শক্তিগুলোর সেবাদাস স্বৈরশাসকদের মহাদুর্দিন আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে পবিত্র কোরআনের এই অমোঘ বাণী, " বলুন! সত্য এসে গেছে ও মিথ্যা বিলুপ্ত, আর মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক জাগরণ সম্পর্কে বলেছেন, "বর্তমান সময়টি মানব ইতিহাসের এক বড় ক্রান্তিলগ্ন বা নতুন অধ্যায়ের সূচনা। মহান আল্লাহর প্রতি মনোযোগ বা গুরুত্ব দেয়া ও তার অক্ষয় শক্তি এবং প্রত্যাদেশ বা ওহির ওপর নির্ভর করা-প্রভৃতি এ যুগের বৈশিষ্ট্য । বর্তমানে মুসলিম জাতিগুলোকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে যে বিষয় তা হলো- ইসলাম। ঐশী ধর্ম তথা ইসলাম মানুষের সৌভাগ্য নিশ্চিত করতে পারে বলে মহান আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।"

বিশ্বের ৭৩টি দেশের বিপ্লবী যুব নেতা ও কর্মীরা তেহরানে "যুব সমাজ ও ইসলামী জাগরণ" শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপস্থিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিপ্লবকে আরো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার খুব ভাল সুযোগ পেয়েছেন। এ সম্মেলনের সুবাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনেকেই নিজেকে ধন্য মনে করেছেন। লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রখ্যাত কমান্ডার শহীদ ইমাদ মুগনিয়ার কন্যা এ অনুষ্ঠানে বলেছেন, "আমি ফাতেমা, আপনার কন্যা ও শহীদ ইমাদ মুগনিয়ার সন্তান।" তিনি আরো বলেছেন, " মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ই বর্তমান ইসলামী জাগরণের ও মধ্যপ্রাচ্যের বিপ্লবগুলোর উৎস।" বিশ্বের মুসলিম যুব নেতৃবৃন্দের সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, "বিপ্লবী যুব সমাজ মুসলিম উম্মাহ'র জন্য বড় ধরনের সুসংবাদের বার্তা বহন করছে। আজ সারা বিশ্বের মুসলিম যুব সমাজ জেগে উঠেছে। বর্তমান বিশ্বে যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য হাজারও ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে , কিন্তু তা সত্ত্বেও সভ্রান্ত ও উচ্চ মনোবলের অধিকারী মুসলিম যুব সমাজ এসব ফাঁদ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পেরেছে। আপনারা দেখছেন তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন ও বাহরাইনে এবং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে কি ঘটনা ঘটছে।"

মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসক ও তাদের পশ্চিমা সহযোগীরা কখনও এটা কল্পনাও করতে পারেনি যে বিপ্লবী যুবকরা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলবে। পশ্চিমা উপনিবেশবাদীরা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব করার পর এখন তাদের জুলুমের নীতির তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন- বৃটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন সরকার ইসলামী দেশগুলোকে দখল করে ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণকেন্দ্রে ইহুদিবাদী ইসরাইল নামক ক্যান্সারকে বসিয়ে এবং এ দখলদার শক্তিকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে। এভাবে সাম্রাজ্যবাদী এ সরকারগুলো মুসলমানদের অপমান করেছে। তিনি সাম্রাজ্যবাদীদের কর্তৃত্বের কুফল সম্পর্কে বলেছেন, "পশ্চিমা সংস্কৃতি মুসলমানদের মধ্যে এ ধ্বংসাত্মক ভুল ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে কিছু করতে সক্ষম নয়, কারণ, মুসলমানরা নাকি দুর্বল। মুসলিম দেশগুলো এ ধারণাকে সত্য মনে করে দশকের পর দশক ধরে পিছিয়ে থেকেছে। তাদের ঢুকিয়ে দেয়া আরেকটি ধ্বংসাত্মক ভুল ধারণা হল, পাশ্চাত্য অপরাজেয় ও অশেষ ক্ষমতাধর। পশ্চিমারা যেহেতু পিছু হটবে না, তাই আমাদেরকেই পাশ্চাত্যের মোকাবেলায় নিরব থাকতে হবে।"
কিন্তু ইসলামী জাগরণ জালেম ও স্বৈরশাসকদের ক্ষমতার কৃত্রিম দাপট ভেঙ্গে দিয়েছে। মহান আল্লাহর সহায়তায় মুক্তিকামী জাতিগুলোর দৃঢ় উদ্যম ও ঈমান সাম্রাজ্যবাদীদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও যে অপরাজেয় নয় তার প্রমাণ হল, ইরানের শাহ, মিশরের হুসনি মোবারক ও তিউনিশিয়ার বিন আলির মত সরকারগুলোর পতন। কারণ, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও মার্কিন সরকার এসব সেবাদাস সরকারগুলোকে সর্বাত্মক এবং ব্যাপক সহায়তা দিত। তাই সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন এসব পতিত শাসকদের মালিক তথা পশ্চিামা সাম্রাজ্যবাদেরও পতন ঘটবে।
এ প্রসঙ্গে হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "আজ মুসলিম দেশগুলাতে পাশ্চাত্যের ক্রীড়ণক স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে জাগরণ জোরদার হয়েছে। এটা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ, ঘৃণিত বিশ্ব-ইহুদিবাদ ও বিশ্ব-একনায়কতন্ত্র বিরোধী জাগরণেরই সূচনা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ অন্য সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের পতন যে অনিবার্য তা বুঝতে পেরেছে। তাই এসব বিপ্লব যেন উচ্চতর লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারে সেজন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক একনায়করা জাতিগুলোর ওপর আবারও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিপ্লবী যুব নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "সাম্রাজ্যবাদীরা জনগণের বিপ্লবগুলোকে যাতে ছিনতাই না করতে পারে ও বিপ্লবগুলোকে বিচ্যুত করতে না পারে সে বিষয়ে সদা-সতর্ক থাকুন। এ ব্যাপারে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন।"
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মহান আল্লাহর ওয়াদার প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার বা ভরসা করার গুরুত্বের কথাও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে সুরা ফাতহের ছয় নম্বর আয়াতের কথা তুলে ধরেছেন যেখানে বলা হয়েছে, "মুনাফিক ও মুশরিক নারী-পুরুষ আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে এবং এ জন্য আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন, রহমত থেকে দূরে রাখবেন ও তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছেন।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে, মানুষ বা জনগণ যদি আল্লাহর জন্য ও জালেমদের নির্মূলের জন্য কোনো আন্দোলন বা প্রচেষ্টা শুরু করে তখন মহান আল্লাহ বিশেষ সাহায্য ও পথ-নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের বিজয়ী করেন। তিনি উত্তর-আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুব সমাজসহ এ অঞ্চলের বিপ্লবী জনগণের বিজয়কে খোদায়ী সাহায্যপুষ্ট বলে মনে করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে মুসলিম বিশ্বে ইসলামী জাগরণ জোরদার হয়েছে এবং এ ইসলামী জাগরণে সবগুলো মুসলিম মাজহাবের অনুসারী শরীক হয়েছেন। তিনি ইসলামকে ও কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে টার্গেট করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "শত্রুরা যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে সক্ষম না হয় আমাদের সে জন্য সচেষ্ট হতে হবে। আমরা সবাই সাম্রাজ্যবাদের শত্রু, আমরা সবাই পাশ্চাত্যের নোংরা কর্তৃত্বের বিরোধী এবং মনে-প্রাণে ইসরাইল নামক বিষফোঁড়া বা ক্যান্সারের বিরোধী।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে বর্তমান যুগটি ইসলামী জাগরণের অনন্য যুগ এবং মুসলমানরা আবার ইসলামের সোনালীয় যুগের মত বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার সব ক্ষেত্রে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। তার মতে, ইসলামই মানবতাকে ন্যায় বিচার, আধ্যাত্মিকতা স্বাধীনতা ও বিবেকসম্মত-জ্ঞান বা যুক্তির কর্তৃত্ব উপহার দিতে সক্ষম। #

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/এআর/৮

 
More articles :

» ইসলামই শ্রম ও শ্রমিকের প্রকৃত মর্যাদা দিয়েছে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

২৯ এপ্রিল ( রেডিও তেহরান): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়রত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, কর্মই...

» উপনিবেশবাদ-বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান : সর্বোচ্চ নেতা

২৩ এপ্রিল (রেডিও তেহরান) : ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, দিন...

» ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন : দিল্লির প্রতি জামায়াতে ইসলামী হিন্দ

৮ এপ্রিল (রেডিও তেহরান) : ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে ভারত সরকারের...

» ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি মেনে নেব: সর্বোচ্চ নেতাকে ওবামার বার্তা

৭ এপ্রিল (রেডিও তেহরান):মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক...

» প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ

৫ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায়...

Comments  

 
0 #1 kazi saif feni 2012-02-15 03:08
Iran amar prio des ir k khob balobashi radio tehran jindabad
Quote
 

আপনার মন্তব্য লিখুন (বাংলা ইউনিকোড ফন্টে অথবা ইংরেজীতে)


Security code
রিফ্রেস দিন

সমাজ-সংস্কৃতি

হেনরি কোরবিনের দৃষ্টিতে ইরানে ইসলাম

News image

অধ্যাপক হেনরি কোরবিন পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রাচ্য ও ইসলাম-বিশেষজ্ঞ। ফরাসি এই চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইসলাম সম্পর্কে এবং বিশেষ করে...


আরও: সমাজ-সংস্কৃতি

রাজনীতি

খাওয়াজা এখন বাহরাইনের জাগরণের প্রতীক

News image

বাহরাইনে অনশন পালনকারী মানবাধিকার নেতা আব্দুল হাদি আল-খাওয়াজা এখন জাগরণের প্রতীক বা আদর্শে পরিণত হয়েছেন। ১৪ জন মানবাধিকার কর্মীর সঙ্গে... বিস্তারিত...


আরও: রাজনীতি

শিল্প ও সাহিত্য

ইসলামী জাগরণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলন

News image

সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আমন্ত্রণে তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইসলামী জাগরণ বিষয়ক সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলন। ঐ সম্মেলনে আরব... বিস্তারিত...


আরও: শিল্প ও সাহিত্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ফার্সি নববর্ষ-১৩৯১ : ‘দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বছর’

News image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ফার্সি নববর্ষ-১৩৯১ বা নওরোজ উপলক্ষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে... বিস্তারিত...


আরও: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা