বৃহস্পতিবার- 17 মে 2012 / 07:11
বুধবার, 01 ফেব্রুয়ারী 2012 21:42    পিডিএফ প্রিন্ট ইমেইল
মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বিশ্লেষণ : কেন যুক্তরাষ্ট্র পুতিনকে প্রেসিডেন্ট দেখতে চায় না?

১ ফেব্রুয়ারি (রেডিও তেহরান) : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসন্ন। আগামী ৪ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। এ মূহুর্তে পুতিনের প্রতি শতকরা ৫২ ভাগ রুশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু, দেশের বাইরে পশ্চিমা জগতে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন চায় না পুতিন আবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচত হোন। কিন্তু, কেন মার্কিন প্রশাসন এমন ইচ্ছা পোষণ করছে? এর পেছনে কি কারণ রয়েছে যে, পুতিনকে আর ক্রেমলিনে দেখতে চায় না ওয়াশিংটন। রাশিয়ার দৈনিক পত্রিকা 'কোমসোলোস্কায়া প্রাভদা' তার কারণ খুঁজেছে। মার্কিন খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম এঙ্গদালের একটি জরিপ ও কয়েকটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বিষয়টিকে খুব খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে পত্রিকাটি। এঙ্গদাল মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এ জাতীয় নেতার মর্যাদাহানি করতে চায়। কারণ, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের পথে পুতিনই হচ্ছেন অন্যতম প্রধান বাধা।
তিনি আরো বলেন, "ওয়াশিংটন সুস্পষ্টভাবে চাইছে তার পথের কাঁটা (পুতিন) সরে যাক। হিলারি ক্লিনটন এবং তার বন্ধুরা দৃশ্যতঃ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হচ্ছেন তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা। কিন্তু, খুব কম সংখ্যক লোকই জানেন- কেন তিনি বাধা। রাশিয়া তার মিত্র চীন এবং বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরানকে নিয়ে বিশ্বে প্রতিরোধের একটি কার্যকর অক্ষ শক্তি গড়ে তুলতে চাইছে। এ তিন দেশের মধ্যকার মৈত্রী একক পরাশক্তি মার্কিনীদের জন্য বড়ই সমস্যা।"
সন্দেহ নেই, গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে পুতিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নন। অর্থাৎ অন্যরা যাকে গণতন্ত্র বলেন হয়তো পুতিন তা পুরোপুরি চর্চা করেন না। কিন্তু, কয়েক মাস আগে তিনি এবং প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ একটা ঘোষণা দিয়েছেন যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেছেন, আগামী ৪ মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশে নতুন করে ব্যাপক মাত্রায় কর্মসংস্থানের কাজ করবেন। আর পাওয়ার পলিটিক্সের ক্ষেত্রে এ ঘোষণা যে রুশ ভোটারদেরকে যথেষ্ট আকর্ষণ করবে তাতেও কোনো সন্দেহ নেই।
বলা হচ্ছে- ওয়াশিংটন এখন রাশিয়ায় নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের চেয়ে সরকার পরিবর্তনে মনোনিবেশ করেছে বেশি। এ কাজ সেই ওবামা প্রশাসন করতে চায় যারা কিনা কিছুদিন আগে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংবিধানে অধিকার সংক্রান্ত আইন পাস করেছে। এ আইন দিয়ে তারা বিশ্ববাসীকে এটাই বোঝাতে চায় যে, মার্কিন নাগরিকরা গণতন্ত্র ভোগের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন হস্তক্ষেপ করছে বলে পুতিন সম্প্রতি যে অভিযোগ করেছেন তাকে বিবেচনায় নিতে বলেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এঙ্গদাল। ২০১১ সালের আগস্টে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়- ওয়াশিংটনভিত্তিক বহু বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও রাশিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। ওই প্রতিবেদন অনুসারে- এনজিওগুলো এখন রাশিয়ার সব জায়গায় এবং অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছে। 'ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি' নামের একটি এনজিও এ কাজের নেতৃত্বে রয়েছে। সংস্থাটি এরইমধ্যে মস্কোয় একটি আন্তর্জাতিক প্রেস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে এক সঙ্গে ৮০টি এনজিও সংবাদ সম্মেলন করতে পারে। এ সংস্থাটি রাশিয়ার তরুণ যুবকদের দেশটির প্রধান নির্বাহী পদে বসাতে রাজনীতিতে টেনে আনছে। ২০১০ সালে ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ডলার ব্যয়ে এ সংস্থাটি রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। এ খবরও দিচ্ছেন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এঙ্গদাল।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে- কেন পুতিনকে টার্গেট করা হয়েছে? এর জবাব খুঁজতে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে না। রাশিয়া গণতান্ত্রিক কিনা তা নিয়ে ওয়াশিংটন বিশেষ করে বারাক ওবামা প্রশাসনের কোনো উচ্চবাচ্য নেই। তাদের আসল উদ্বেগ হচ্ছে- এক কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়াশিংটনের যে উগ্র বাসনা রয়েছে তার প্রতি ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাধা।
এ ছাড়া, মনে করা হচ্ছে- রাশিয়ার জ্বালানিকেও একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার গ্যাস 'পাইপলাইন ডিপ্লোমেসি' ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য যেমন জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক গভীর করতে বিরাট ভূমিকা রাখছে। রাশিয়ার এ পাইপলাইন কূটনীতি স্বাভাবিকভাবেই মস্কোর বিরুদ্ধে ন্যাটোর ভূমিকা দুর্বলও করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা প্রত্যাশা করতে পারি যে, রাশিয়া বরং ইউরেশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়বে। আর এ ক্ষেত্রে চীন, ইরান এবং সম্ভবতঃ ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়াবে; তাতেই ভেসে যাবে ওয়াশিংটনের এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ার নতুন পরিকল্পনা।#

 

তেহরান বেতার/এসআই/এমএইচ/১.১৯

 

সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, 02 ফেব্রুয়ারী 2012 17:16 )
 
More articles :

» পুতিনের কাছে রুশ মন্ত্রিসভার নাম জমা দিলেন মেদভেদেভ

১৫ মে (রেডিও তেহরান) : রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশটির নতুন মন্ত্রিসভার নাম...

» পুতিন-ওঁলান্দ টেলিফোন সংলাপ ; শিগগিরি বৈঠক

১২ মে (রেডিও তেহরান) : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া...

» যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় জি-৮ শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করলেন পুতিন

১০ মে (রেডিও তেহরান) : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৮ এর...

» রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের বিজয় পশ্চিমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ

৮ মে (রেডিও তেহরান): ভ্লাদিমির পুতিন আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত পর দেশটির...

» প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিন আবার ক্রেমলিনে, শপথ গ্রহণ

৭ মে (রেডিও তেহরান) : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিন আবার আজ (সোমবার) শপথ নিয়েছেন।...

আপনার মন্তব্য লিখুন (বাংলা ইউনিকোড ফন্টে অথবা ইংরেজীতে)


Security code
রিফ্রেস দিন

সমাজ-সংস্কৃতি

হেনরি কোরবিনের দৃষ্টিতে ইরানে ইসলাম

News image

অধ্যাপক হেনরি কোরবিন পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রাচ্য ও ইসলাম-বিশেষজ্ঞ। ফরাসি এই চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইসলাম সম্পর্কে এবং বিশেষ করে...


আরও: সমাজ-সংস্কৃতি

রাজনীতি

খাওয়াজা এখন বাহরাইনের জাগরণের প্রতীক

News image

বাহরাইনে অনশন পালনকারী মানবাধিকার নেতা আব্দুল হাদি আল-খাওয়াজা এখন জাগরণের প্রতীক বা আদর্শে পরিণত হয়েছেন। ১৪ জন মানবাধিকার কর্মীর সঙ্গে... বিস্তারিত...


আরও: রাজনীতি

শিল্প ও সাহিত্য

ইসলামী জাগরণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলন

News image

সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আমন্ত্রণে তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইসলামী জাগরণ বিষয়ক সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলন। ঐ সম্মেলনে আরব... বিস্তারিত...


আরও: শিল্প ও সাহিত্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ফার্সি নববর্ষ-১৩৯১ : ‘দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বছর’

News image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ফার্সি নববর্ষ-১৩৯১ বা নওরোজ উপলক্ষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে... বিস্তারিত...


আরও: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা