|
||||
| ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীদের ভোটের অধিকার নেই : ইলির জায়েরকা |
|
১০ আগস্ট (রেডিও তেহরান): পাশ্চাত্যের দেশগুলো বিশেষ করে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র এবং নির্বাচন নিয়ে বড় বড় কথা বলে। সুযোগ পেলেই তারা নিজেদের শিবির ভুক্তদেশগুলো ছাড়া অন্য কোথাও বিশেষ করে ইরানে গণতন্ত্র নেই বলে দাবি করে। ইরানের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালায়। অথচ অনেকেই জানেন না, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা কংগ্রেস এবং সিনেট নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ডিসি ভোট অর্গানাইজেশন বা ডিসি ভোট নামের একটি সংগঠন গত দশ বছর ধরে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছে। এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইলির জায়েরকা একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো : যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জনসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। তবে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনে এদের ভোট দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। ওয়াশিংটন ডি.সির অধিবাসীরা কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না এ কথা আপনি জানতেন না, তাই না ? না, তা হলে আপনি অবাক হবেন না। একটি জরীপে দেখা গেছে, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ মানুষ এ বিষয়টি জানেন না। সাক্ষাৎকারের প্রথমেই ডিসি ভোট অর্গানাইজেশন বা ডিসি ভোটের নির্বাহী পরিচালক ইলির জায়েরকার ডিসি ভোটের কার্যক্রম কেনো শুরু করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার কতোটা আছে তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দশ বছর আগে ডিসি ভোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা যেন নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে সে জন্য নির্দলীয় এবং অলাভজনক এই সংগঠন জন্মলগ্ন থেকেই চেষ্টা করছে। বর্তমানে এই সংগঠন ওয়াশিংটন ডিসির ভোটাধিকার নামের একটি বিল পাস করানোর জন্য চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসকারীদেরকে তাদের ভোট প্রদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করায় তা গণতন্ত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি ভোটের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ওয়াশিংটনের বাসিন্দারা কর প্রদান করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে লড়াইয়ে প্রাণ দেন। তারা বিভিন্ন সময়ে জুরির দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও তাদের প্রতিনিধি পরিষদে ভোট প্রদানের অধিকার নেই। গণতন্ত্রের যে নীতিমালার কথা বলা হয় তার সাথে এই আচরণের কোনো সঙ্গতি নেই। কেউ কেউ বলে থাকেন, জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণে ওয়াশিংটন ডিসির প্রতিনিধি পরিষদের ভোট দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ ২০০৭ সালের মার্কিন আদম শুমারি মোতাবেক মার্কিন অঙ্গরাজ্য উইয়োমিং এর লোকসংখ্যা ৫লক্ষ ২৫ হাজারেরও কম। এই অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটে ২জন এবং কংগ্রেসে ১জন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি কর প্রদান করে কানেক্টিকাট অঙ্গরাজ্যের অধিবাসীরা, কর প্রদানের দিক থেকে ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তারপরও ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীদের প্রতিনিধি পরিষদে ভোট দেয়া অধিকার নেই। মার্কিন সরকার বলছে, ওয়াশিংটন ডিসি কোনো অঙ্গরাজ্য নয় বা কোনো অঙ্গরাজ্যের অংশ নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কেবল অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিসি ভোট অর্গানাইজেশন বা ডিসি ভোটের নির্বাহী পরিচালক ইলির জায়েরকার বলেন, ওয়াশিংটন ডিসি সংক্রান্ত বিধি বলে কংগ্রেস ওয়াশিংটন ডিসিকে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা প্রদান করেছে, এমনটি আমেরিকান বার এসোসিয়েশন সহ সংবিধান বিষয়ক অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। তা ছাড়া আইনগত অনেক ব্যাপারে, কর নির্ধারণ করার সময় এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীদেরকে কার্যত একটি অঙ্গরাজ্যের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসির নাগরিকরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কেন্দ্রকে আয়কর হিসেবে প্রদান করেন। অথচ ষোলতম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অঙ্গরাজ্য গুলো থেকে কংগ্রেস কেবল এ ধরণের আয়কর আদায় করতে পারবে। শেষ পর্যন্ত ডিসি ভোটিং রাইটস এ্যাক্ট-২০০৯ অনুযায়ী ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা ভোট অধিকার পাবেন কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ওই এ্যাক্ট অস্ত্র সংক্রান্ত অপর একটি আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে গেছে। তবে বিষয়টা সুরাহা হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই বিধি অনুযায়ী ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন । কিন্তু তারা সিনেটের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন না। তা হলে ব্যাপারটি কি দাঁড়াচ্ছে? কোনো বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলো কিন্তু তা সিনেটে বাদ পড়ে গেলো তা হলে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সে বিলের কোনো মূল্য নেই। তাই কেবল প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীদের কোনো লাভ হবে না। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে পারাটাও ওয়াশিংটনের ডিসির অধিবাসীদের জন্য ব্যাপক সাফল্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ ৯০ বছরের মধ্যে এই প্রথম মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলো।
|





